আমাদের লেখা পাঠান careofsahitya@gmail.com-এ। ভালো থাকুন সকলে। চলতে থাকুক কলম। বলতে থাকুক শব্দ।

প্রচ্ছদ

A SAHITYA-ADDA Initiative C/O:sahitya A BLOG MAGAZIN STAY WITH US THANK YOU
bloggerblogger
প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৪

প্রবন্ধঃ বিবর্তন (ইংরাজী কাব্য ও তাঁর বহতা ধারা) // সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়

               সাহিত্য হল পৃথিবীর ভেতর একটা পৃথিবীর মত যা বাস্তবিক পৃথিবীর থেকেও কয়েকগুণ বড়ো, বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং গভীর। যারা প্রকৃত সাহিত্যপ্রেমী তারা কোনোকালেই ভাষার গন্ডিতে আবদ্ধ থাকতে পারেনি, পারবেও না। সেই কারণে বরাবরই বাঙালী সাহিত্যানুরাগীরা বাংলার সাথে সাথে ইংরাজী সাহিত্যেরও আস্বাদ নিয়ে এসেছে। ইংরাজী সাহিত্য, বিশেষকরে ইংরাজী কাব্যের সাথে যারা ইতিমধ্যেই সুপরিচিত, আশা করি তারা বুঝবেন এই ভাষার কাব্যধারার আলোচনা কতটা বিশাল, বহুমুখী এবং কঠিন হতে পারে। তবুও দুঃসাহস করে একটা চেষ্টা করলাম।

             ইংরাজী কাব্যের নানান সূক্ষ্ম রীতিনীতি-ধারা ইত্যাদি আলোচনার জন্য প্রথমেই সময় ও বিবর্তনের ইতিহাসকে আটভাগে বিভক্ত করে নেওয়া যেতে পারে। যথাক্রমে- ১। প্রাচীন ইংরাজী যুগ, ২। মধ্য ইংরাজী যুগ এবং চসার, ৩। এলিজাবেথান যুগ এবং মিলটন, ৪। নিও-ক্লাসিকাল যুগ, ৫। রোমান্টিক যুগ, ৬। ভিক্টোরিয়ান যুগ, ৭। আধুনিক যুগ এবং ৮। আধুনিকোত্তর যুগ।

                সমালোচকেরা প্রাচীন ইংরাজী যুগ হিসেবে পঞ্চম শতাব্দী থেকে একাদশ শতাব্দীর মাঝের সময়টাকে ধরেছেন। অনেকেই মনে করেন, অষ্টম শতাব্দী থেকে এই যুগের সূত্রপাত হয়। এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। তবে যে লেখাগুলি পাওয়া গেছে, অনুমান করা হয় সেগুলো তারও প্রায় তিনশো বছর আগে লেখা হয়েছিল। ৪১০ খ্রিস্টাব্দে রোমানদের প্রস্থানের সাথে সাথেই ইংরাজী সাহিত্যে প্রাচীন যুগের ভিত গড়ে ওঠে এবং ১০৬৬ খ্রিস্টাব্দে নরম্যান্ডি বিজয়ের সাথে সাথেই তা সমাপ্ত হয়। এই বিশাল সময়সীমায় গদ্যের আগে রচিত হয়েছিল কাব্য। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কোনো লেখাতেই “ইংল্যান্ড” নামের উল্লেখ মেলেনি।

                 প্রাচীন ইংরাজী যুগে মূলত দু’ধরনের কাব্য দেখা যেত, ১। জার্মানিক বীরত্বের কাব্য যা মূলত পেগ্যান ধর্মের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এবং ২। পরবর্তী সময়ে খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারের জন্য লেখা কাব্য। সামান্য কিছু কবি (ক্যাডমন, ব্যেডে, অ্যালফ্রেড দ্য গ্রেট এবং সিনউল্ফ) ছাড়া কারোর নাম সেভাবে জানা যায়না। পেগ্যান কবিতার মধ্যে আমরা “উইডসিথ্”, “ওয়াল্ডেয়ার”, “দ্য ফাইট অ্যাট ফিন্সবার্গ” বা “দ্য ব্যাটল অফ ম্যাল্ডন” এর মত কবিতা দেখতে পাই। খ্রিস্টান কবিতার মধ্যে দেখতে পাই বাইবেলের নানা ঘটনা নিয়ে লেখা কবিতা (“জুলিয়ানা”, “এলিন”, “ক্রাইস্ট”, “দ্য ফেট্স অফ দ্য অ্যাপোস্টলস”, “ক্রাইস্ট অ্যান্ড স্যাটান” ইত্যাদি) যা সিনউল্ফ গ্রুপ এবং ক্যাডমন গ্রুপের কবিরা লিখেছিলেন। এছাড়াও ছিল দুঃখের কবিতা বা এলিজি। তবে এই যুগের শ্রেষ্ঠ অবদান ছিল “বেওউল্ফ”।

                   “বেওউল্ফ” একটি ক্লাসিক মহাকাব্য যা বর্তমানে “ইলিয়াড” এবং “ওডিসি’’র সাথে একই আসনে স্থান পেয়েছে। এর কবি সম্পর্কে আজও কিছু জানা যায়নি। এটির বিষয় জার্মানিক বীরগাথা যেখানে আমরা ইগথিউ-এর ছেলে বেওউল্ফকে জলপথে ডেনমার্ক আসতে দেখি এবং সেখানে ড্যানিশ রাজা হ্রদগারের রাজত্বকে তিনি দৈত্য গ্রেন্ডেল এবং তার মায়ের হাত থেকে মুক্ত করেন। বেওউল্ফ দেশে ফিরে যান এবং সেখানে গ্যেটাসের রাজা হয়ে চল্লিশ বছর রাজত্ব করেন। এক ড্রাগনকে হত্যা করার সময় গুরুতর চোট পেয়ে তিনি মারা যান। কাব্য শেষ হয় বেওউল্ফের সাম্মানিক সমাধিতে। রবার্ট জেমেকিস নির্দেশিত এবং রে উইনস্টন-অ্যান্থনি হপকিন্স-অ্যাঞ্জেলিনা জোলি অভিনীত ২০০৭ সালের কম্পিউটার অ্যানিমেটেড “Beowulf” সিনেমাটা দেখে নিতে পারেন আগ্রহ থাকলে।

                  স্টাইল বা রীতি সম্পর্কে বলতে গেলে এইসময়ের কাব্যে ভাষার ব্যবহার ছিল বড্ড স্পষ্ট এবং শক্তিশালী। যৌগিক শব্দের ব্যবহার লক্ষ্য করা যেত। Simile বা উপমা অলঙ্কারের ব্যবহার প্রায় ছিলনা বললেই চলে। তবে Metaphor বা রূপক উপমা অলঙ্কারের শক্তিশালী প্রয়োগ হত। ছিল “Alliteration” বা অনুপ্রাস অলঙ্কারের ব্যাপক ব্যবহার। ল্যাটিন থেকে বহু ধার করা শব্দ মেলে এইসময়ের লেখায়। নর্দামব্রিয়ান, মার্সিয়ান, কেন্টিশ এবং ওয়েস্ট স্যাক্সন- এই চাররকম Dialect বা উপভাষার দেখা মিলতো প্রাচীন ইংরাজী যুগের সাহিত্যে। আজকের ইংরাজী ভাষার সাথে এর কোনো মিল ছিলনা।

                       ব্যেডে’র লেখা অনুযায়ী “ক্যাডমন’স্ হিম্” ছিল এই যুগের সবচেয়ে পুরোনো কবিতা। গবেষকদের মতে, সম্ভবত এই যুগের শেষ কবিতা ছিল “দ্য গ্রেভ”। আজও এই যুগের লেখা কবিতা, গদ্য নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহের অন্ত নাই। ইতিহাসবিদদের নিরন্তর প্রয়াস চলছে এই যুগের আরো অনেক অনেক তথ্য অন্বেষণের। যতদিন পৃথিবীর অস্তিত্ব রয়েছে, ততদিন এই যুগ বেঁচে থাকবে এর সমৃদ্ধ সাহিত্যসৃষ্টির মাধ্যমে।

শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৪

প্রবন্ধঃ আমরা কি প্রকৃতই স্বাধীন? / মনীশ বিশ্বাস



  

ভারতের স্বাধীনতা দিবস পালিত হয় ১৫ই আগস্ট তারিখে। ১৯৪৭ সালে এই দিনটিতেই ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছিল। সারা দেশে স্থানীয় প্রশাসন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। দেশের প্রধান অনুষ্ঠানটি হয় দিল্লির লালকেল্লায়। ১৯৪৭সালের ১৫ই আগস্ট স্বাধীন ভারতবর্ষের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু তাঁর বিখ্যাত ‘নিয়তির সঙ্গে অভিসার’ অভিভাষণটি প্রদানের মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তারপর থেকে প্রতি বছর ভারতের নির্দিষ্ট প্রধানমন্ত্রীরা ১৫ই আগস্টে লালকেল্লায় পতাকা উত্তোলন করে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নেতা ও শহিদদেরও শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া দেশব্যাপী সমস্ত বিদ্যালয়ে, পাড়ায় পাড়ায়, বিভিন্ন ক্লাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয় ও দেশাত্মবোধক গান শোনার মধ্য দিয়ে ১৫ই আগস্ট দিনটি জাতীয় ছুটির দিন হিসাবে পালিত হয়।
      কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে, স্বাধীন ভারতের নাগরিক হয়ে এটুকুই কি যথেষ্ট কারণ স্বাধীনতা দিবস পালন করার? শুধুমাত্র ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তিলাভ করাই কি স্বাধীনতা? এটুকুই কি যথেষ্ট শ্রদ্ধাজ্ঞাপন সেই সমস্ত শহিদদের প্রতি, যারা নিজেদের প্রাণ বলিদান দিয়েছেন ভারতবর্ষকে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন করার জন্য? আমরা কি চাই না আমাদের চারিপাশে সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা দুর্নীতি থেকে স্বাধীন হতে? আমরা কি চাই না একটা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ সমাজে বেঁচে থাকতে? আমরা কি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থা এবং দৃঢ়তার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার দাবি করতে পারি না? আমরা কি প্রশ্ন করতে পারি না, কেন আমাদের অর্থনীতি সামান্য কিছু লোকের সুবিধার্থে, কেন সমগ্র ভারতবাসীর কথা ভেবে নয়? আমরা কি সত্যিই স্বাধীন যখন সারা দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার এত আগ্রাসন? স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় একজন ভারতীয় হিসাবে এই প্রশ্নগুলি কি আমাদের মাথায় আসা উচিত নয়?
একজন ভারতীয় NASA বিজ্ঞানী ও ডিজিটাল ক্যামেরার আবিষ্কারক ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালনের সম্পর্কে ৬৮তম স্বাধীনতা দিবসে মন্তব্য করেছেন-  
“It is a poor attempt to disguise the blatant ‘unpatriotic’ attitude on display 364 days of the year”

সত্যিই তো, বছরের বাকি ৩৬৪দিনের স্বাধীনতার কথা না ভেবে শুধুমাত্র ১৫ই আগস্টের দিন দু-কলি বন্দে-মাতরম্ গেয়ে বা শুনে ছুটি উপভোগ করা বা ফেসবুক, টুইট্যারে জাতীয় পতাকার ছবি শেয়ার করা বা গদগদ হয়ে ‘Happy Independence Day’ মেসেজ শেয়ার করার নামই স্বাধীনতা নয়, স্বাধীনতা একটি অনুভূতি এবং এই অনুভূতি যদি আমরা বছরের বাকি দিনগুলিতেও উপভোগ করতে পারি তবেই আমরা প্রকৃত স্বাধীন।
Malcolm X –এর কথা অনুসারে একজন মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি বা স্বস্তি পেতে পারে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে সমস্ত দিক থেকে স্বাধীন হতে পারছে।

“You can’t separate peace from freedom because
no one can be at peace unless he/she has his/her freedom.” – Malcolm X 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ভারতবর্ষে নারী সুরক্ষা, মানুষ কেনা-বেচা, দুর্নীতি ইত্যাদি প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে, ছড়িয়ে পড়েছে ভারত মায়ের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে। এমত অবস্থায় একজন মানুষ সর্বোপরি একজন ভারতীয় কিভাবে শান্তি বা স্বস্তি পেতে পারে? ,?আর তাই যদি নাই পারে তাহলে এ কেমন স্বাধীনতা? আমরা তো এ স্বাধীন ভারতবর্ষ চাই নি যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বলতে হয়-

“ধর্ষণ ‘ভারতের জন্য একটি লজ্জার উৎস’ , ধর্ষণের            
       কারণে আমাদের মাথা নিচু হয়ে গেছে।’’

বা সমগ্র দেশের উদ্দশ্যে ভ্রূণ হত্যার সম্পর্কে বার্তা দিতে গিয়ে বলতে হয় না-

“আমি মা, বাবাদের অনুরোধ করছি কন্যাভ্রুণ হত্যা করবেন না। আমি এরকম পরিবারও দেখেছি যেখানে একটি মেয়ে, ৫টি ছেলের থেকে বেশি সফল হয়েছে।’’
বিশ্বের বাকি দেশগুলির কাছে এগুলি সত্যিই ভারতবাসীর লজ্জার কারণ। অথচ সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিচার বিবেচনা করে চেতনা পরিবর্তনের দৃঢ় ডাক দেবার পরিবর্তে আমরা এই সমস্ত বিষয় নিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক লাভের চেষ্টাই করে থাকি, মেতে উঠি হুজুগে। কিন্তু এই সমস্ত লজ্জার কারণ অপসারিত করতে শুধুমাত্র সরকার বা সরকারের মুষ্টিবদ্ধ নেতারা বা গুটিকয়েক বুদ্ধিজীবী মানুষই পর্যাপ্ত নয়, সমগ্র দেশবাসীকেই এগিয়ে আসতে হবে, একত্রিত হতে হবে এর বিরুদ্ধে। ঘটনার পরম্পরায় পুরনো সমস্যাগুলোকে ভুলে না গিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে কৃষক, শ্রমিক, যুবক, শিশু, নারী – সকলের প্রাপ্য অধিকারগুলি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলি। সমস্যাগুলোকে সমূলে উচ্ছেদ করে গড়তে হবে নিরাপদ, দুর্নীতি মুক্ত ভারতবর্ষ। তবেই আমরা প্রকৃত স্বাধীনতার অনুভূতি নিয়ে গাইতে পারবো-
“ সারে জাহাসে আচ্ছা, হিন্দুস্তান হামারা’’

বা ভারতীয় হিসাবে গর্বের সহিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে পারবো-

‘সার্থক জনম আমার, জন্মেছি এই দেশে’ ।

শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৪

প্রবন্ধঃ ৬৭ তম স্বাধীনতা দিবসে / মৌমিতা চক্রবর্তী




         স্বাধীনতা বলতে কি বুঝায়?ভারতীয় সংবিধানের ১৯ নং ধারায় ৬ টি স্বাধীনতার উল্লেখ আমরা পাই। সেই সূত্রে আমরা বাক স্বাধীনতা ,চলাফেরা করা,সংঘ –সমিতি গঠন করার স্বাধীনতা,যে কোন বৃত্তি নির্বাচন,ভারতের ভূখণ্ডে বসবাস করার স্বাধীনতা, ,শান্তিভাবে সমবেত হবার স্বাধীনতা এগুলির অধিকার আমরা পেয়ে থাকি ।কিন্ত আমরা কী সত্যি স্বাধীনতার মর্ম বুঝি? স্বাধীনতা বলতে প্রকৃত অর্থে যা বোঝায় তা হল স্ব + অধীন। অর্থাৎ নিজের অধীনে বা নিজের শাসনের মধ্যে থেকে কর্ম সম্পাদন করা,সুস্থ ভাবে জীবন যাপন করা। কিন্তু প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতার ভুল বার্তা পৌঁছেছে মানুষের কাছে। তারা স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে অপারগ। এক শ্রেনির মানুষ স্বাধীনতা কে হাতিয়ার করে তাদের কাজ সিদ্ধি করে চলেছে অবিরত।আবার অপরদিকে আরেক শ্রেণীর মানুষের কাছে স্বাধীনতার কোন মুল্য নেই। তারা প্রতিদিন নিপীড়িত ,অত্যাচারিত শ্রেনির মানুষ –যাদের কে প্রতিদিন এক বেলা খাবারের যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়।তাদের সংগ্রামের চিত্রটা একইরকম রয়ে গেছে, বদলে নি অবস্থাটা। তার সাথে বাড়তি সং - যোজন যে স্বাধীনতার পরে নিজের দেশের মানুষের কাছ থেকে অবহেলা ও অন্যায়। স্বাধীনতা সাম্যতা আনে।কিন্তু স্বাধীনতার ৬৭ বছর পরেও ভারতবর্ষে সাম্যতা আসেনি।ভেদাভেদ রয়ে গেছে অবিকৃত ভাবে।শুধু তাই নয়,ছেলে মেয়েদের মধ্যে বৈষম্য থেকে গেছে। ছেলেরা যে সকল ক্ষেত্রে স্বাধীন,মেয়েরা কিন্তু সব দিক থেকে স্বাধীন নয়। যেমন ছেলেরা যে কোন বৃত্তি বেছে নিতে পারে খুব সহজে ।কিন্তু একজন মেয়ের ক্ষেত্রে তা সবসময় সহজ হয়ে ওঠে না। এক জন মেয়েকে সবসময় পরিস্থিতি ,সমাজ সমস্ত কিছু বিবেচনা করে চলতে হয়। এক নারীপুরুষনিরপেক্ষ সংবিধান মান্য করলে এই ভেদাভেদ কি প্রকারে হয়? এর জন্য আমাদের গোড়ার দিক থেকে সচেতন থাকতে হবে।প্রত্যেক ঘরের মধ্যে এমন পরিবেশ থাকতে হবে যাতে মেয়েরা কক্ষনও না ভাবে যে তারা বঞ্চিত হচ্ছে।তাদেরকেও জীবনের বৃহৎ পরিসরে বাঁচার সুযোগ দিতে হবে। প্রত্যেক ঘর থেকে এটুকু চেষ্টা করলে মেয়েরাও স্বাধীনতার শ্বাস নিতে পারবে।এর ফলে তাদের আশেপাশের যারা আছেন তাদের মানসিকতার পরিবর্তন হবে। তারাও মেয়েদের কে সম্মান করবে । তাদেরকে কেঊ হেয় করার সাহস পাবে না ,ফলে এক সুস্থ সমাজ তৈরি হবে যা বর্তমান ভারতবর্ষে প্রয়োজন। স্বামীজি বলেছিলেন, যে সমাজে নারীর অগ্রগতি হয় না সেখানে সমগ্র সমাজের অগ্রগতি হয় না।এখন সময় এসেছে বিপ্লবীরা যে স্বাধীন ভারতবর্ষ তাঁদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের উপহার দিয়েছেন তা কোন ভাবে ব্যর্থ হতে দেওয়া চলবে না। বর্তমানে ভারতবর্ষ ক্রীড়া, সাহিত্য ,চিকিৎসা , শিল্প সব দিক থেকে এগিয়ে আছে। আমাদের শুধু প্রয়োজন নিজেদের সংকীর্ণতা, দুর্বলতা কে দূর করে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া। অর্থ যাতে এক শ্রেণীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে না থাকে সেটা সরকারের দেখা কর্তব্য।ভারতের ৬০ শতাংশ মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। জনজীবনে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তার অত্যন্ত অভাব দেখা দিয়েছে।নিয়ম কানুনের কেউ পরোয়া করে না।


         সম্প্রতি
ভারত কমনওয়েলথ গেমসে ভাল প্রদর্শন করে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। যার মধ্যে সোনার পদকের সংখ্যা ১৫ রৌপ্য পদকের সংখ্যা ৩০ ও ব্রোঞ্জ পদকের সংখ্যা ১৯। মহিলা ক্রীড়াবিদদের মধ্যে দীপিকা, জ্যোৎস্না রা ও অন্যান্য অনেকে সোনার পদক এনে দেশের মুখ উজ্জল করেছে । তাছাড়া বিভিন্ন খেলার আয়োজক দেশহিসেবে ভারতের নাম উঠে এসেছে।এসব খবর যেমন আমাদের গর্বের কারন হয়ে দাড়িয়েছে, ঠিক সেইসময় নিরভয়ার মত করুণ সত্য মনকে প্রচণ্ড আঘাত দেয়। যদিও সমস্ত ভারতবাসী সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছিল তাদের নিজের মত করে। কিন্তু তারপরও এই ঘটনার কি পরিসমাপ্তি ঘটেছে? এখনো এই ঘটনা অব্যাহত আছে।এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক । কিন্তু আমাদের সকলের কর্তব্য এই লজ্জার অবসান ঘটানো। সেটা না হলে আমরা প্রকৃত স্বাধীন এই কথাটা অত্যন্ত মিথ্যে শোনাবে ।শুধু আধুনিক পোশাক পরলে ভারতবর্ষে আধুনিকতা আসবে না, চাই মানসিকতার আমুল পরিবর্তন।

         ভারতের
যে জল আমরা পান করছি,যে হাওয়াই আমরা নিশ্বাস নিচ্ছি তা যাদের জন্য সম্ভবপর হয়েছে তাদের সম্মান প্রদর্শন করা কি আমাদের কর্তব্য নয়? অবশ্যই কর্তব্য।এই ১৫ আগস্টে স্বাধীনতার ৬৭ বছর পূর্ণ হবে যখন আমাদের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লির লাল কেল্লায় পতাকা উত্তোলন করবেন, তখন আমরা যাতে সেই পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা - পূর্বক নমন করে স্বাধীনতার সেই লাল সূর্যের কাছে প্রতিজ্ঞা করব যে এই স্বাধীন ভারতবর্ষকে কোনভাবে আমরা কালিমালিপ্ত হতে দেব না,আমাদের এই দেশ সর্বকালের সেরা আসনে বিরাজমান রাখব। কবির ভাষায় বলা যায় ভারত আবার জগত সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে। বন্দেমাতরম।


                            
CSS Drop Down Menu
আমাদের লেখা পাঠান careofsahitya@gmail.com- এ মেল করে।