দুরত্বের উঠানে দুঃখ-সুখ
ঝিকমিক করলেও নিয়ন বাতি দুঃখ-রাতের তারা হয় না—
দূরত্বের যতি ঠোঁটে নিয়েই তারারা সমব্যথী হয়—
ছুঁতে না পারার বেদনা কান্নার পড়শি হয়ে যায়।
দূরত্বের সাথে দুঃখের এই সমানুপাতিক সম্পর্ক নিবু মানেনি।
কাছে আসাতেই নাকি আরো চাওয়ার ফাঁদে
উঠানো-আমি আটপৌরে বেদনা হয়ে গেছি –
নিজেকে অচেনার দূরত্ব বেয়ে নিজেই দুঃখ হয়ে গেছি …
কিন্তু দুঃখ যাদের শিথানে-পৈথানেই আজীবন
তারা দুঃখের সাথে দূরত্বের দূরত্বকে মাপতে পারেনি;
মাপার স্কেলটা চুরি করে কিছু সেমিনারজীবি
তাদের নাম দিয়েছে প্রান্তিকজন—
ছোঁয়ার নাগালে থেকেও তারা আকাশের তারাদেরও দূরতম প্রান্তে।
তাদের দুঃখ নিয়ে কা-কা করতে করতে
দুঃখ-বিলাসীরা মানবতার ভাগাড়ে পৌঁছলে
কবি নাম পায়।
দুঃখের গল্পে সুখকে না আনলে
সুখ পাণ্ডিত্যকে আড়াল করে ঝুলে থাকে
আহা, সুখ –
আমার ভাদ্দরবউ – তোমার পরস্ত্রী – আর ঈশ্বরের আপেক্ষিকতা।
ছায়া-পূজা
আলোর অক্ষমতার যন্ত্রণাকে কে যেন নাম দিল ছায়া
এই ক্ষোভে কুলবতী আলো সন্ধ্যা হলে ঘরে ফিরে না
দ্বাররক্ষী ওজোনের খিল হাট হলে–
পৃথিবীর সাথে বউছি খেলতে খেলতে তাপ হয়ে যায়,
মেরু তুষারকে করে জ্যোৎস্নার কান্না
সমুদ্রকে দেয় ঘর ভাঙার পাসওয়ার্ড।
কুলবতী আলোর ক্ষোভে কুলনাশ নিয়ে
আমাদের ম্যা ম্যা কূটনীতির বেডরুমে পৌঁছবে না
কূটনীতির টাইয়ের নটে অনেক আলো–
উত্তরাধুনিক আলো, ধার্মিক আলো,
সাম্যবাদী আলো, গণতন্ত্রী আলো।
এত আলো– তবু
কমসংখ্যকদেরকে অন্ধকার ছুঁড়ে দিতে
নিরন্তর ছায়া-পূজাই করছে লক্ষ-কোটি পেঁচা।
সবখানে আলো পৌঁছার প্রত্যাশা নিয়েই সূর্য
হিলিয়ামে পুড়ে পুড়ে পৃথিবীর বুকে দুধ জোগায়
তবুও মানবতার সামনে কেবল ছায়ারই রাজত্ব–
কেবল পেঁচাদেরই হুলুধ্বনি।


duti kobitay osadharon
উত্তরমুছুন