১। রাজহাঁসের কুচকাওয়াজ
কলম আর শ্যামের বাঁশির কলহে কোকিল এল রেফারী হয়ে -- বানরের পিঠা ভাগ করে
পৃথিবীর যাবতীয় চমক ঠোঁটে নিয়ে মেধাস্বত্ব বেঁচে দিল মিডিয়ার কাছে। সেই থেকে
মিডিয়াই পৃথিবীর একমাত্র চুম্বক –-
সুমেরু-কুমেরুর নামজারি করছে মাউথ অর্গানে ঢেউ তুলে।
এদিকে সুপন্থাকে ভাসিয়ে নেয়া নদীটার চরে দাঁড়িয়ে এখন কলম আর বাঁশি দুজনেই
মিডিয়ার পেছনে হলদে বুট পরে লেফট-রাইট করে -- কখনও নিরপেক্ষতার বেড়ালটাকে ভিজাতে
সমান্তরালে খেঁউড় গায়।
শুনেছি, কোকিল এখন মেধাস্বত্ব ফিরে পেতে কোকিল-বন্ধন করতে চাইছে। কিন্তু
বাঘ আর মহিষ দুটোই এখন মিডিয়ার ঘাটে –- লম্ফ-ঝম্ফ দৃষ্টিকটু উচ্চতায় উঠে গেলে কোকিলের নাম কাক হয়ে যাবে।
আমিও ভানুমতীকে সংবাদ দিয়েছি -- মেকুড় চলনটা শিখিয়ে দিলে -- জগতের যাবতীয়
কলমবাজদের ফ্যাশনটিভিতে ডেকে বলব -- রাজহাঁসের কুচকাওয়াজ নিয়ে লিখুন।
** ক্যাট-ওয়াক = মেকুড় চলন
২। দুঃখ-সুখ
ঝিকমিক করলেও নিয়ন আলো দুঃখ-রাতের তারা হতে পারে না। দূরত্বই তারাদের
সমব্যথী করে তোলে। দূরত্বের সাথে মনে হয় দুঃখের একটা বেয়াই-বেয়ান সম্পর্ক আছে।
নিবু কথাটা মানেনি। কাছে এসেছি বলেই নাকি দুঃখ হতে পেরেছি। আসলে কাছে থেকেও আমি
অনেক দূরে বলেই দুঃখ হওয়াই নিয়তি।
কিন্তু দুঃখ যাদের শিথানে-পৈথানে আজীবনই বসবাস করে – তাঁরা দুঃখের সাথে দূরত্বের দূরত্বকে মাপতে পারেনি।
মাপার স্কেলটা চুরি করে কিছু সেমিনারজীবি তাঁদের নাম দিয়েছে প্রান্তিক – ছোঁয়ার নাগালে থাকলেও তাঁরা আকাশের তারাদের চেয়েও দূরতম প্রান্তে।
তাঁদের দুঃখ নিয়ে কা-কা করতে করতে কিছু দুঃখ-বিলাসী মানুষ মানবতার ভাগাড়ে পৌঁছলে
কবি নামে পরিচিত হয়।
দুঃখের গল্পে সুখকে না আনলে সুখ পাণ্ডিত্যকে আড়াল করে ঝুলে থাকে। সুখ – সে তো আমার ভাদ্দরবউ – তোমার
পরস্ত্রী – আর ঈশ্বরের আপেক্ষিকতা।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন