আমাদের লেখা পাঠান careofsahitya@gmail.com-এ। ভালো থাকুন সকলে। চলতে থাকুক কলম। বলতে থাকুক শব্দ।

প্রচ্ছদ

A SAHITYA-ADDA Initiative C/O:sahitya A BLOG MAGAZIN STAY WITH US THANK YOU
bloggerblogger

বুধবার, ১৮ জুন, ২০১৪

কবিতাঃ একগুচ্ছ কবিতা / অমিত ত্রিবেদী


সেই ডাকলে, শুধু কিছু লোকজানাজানি হলো...
ফিরে আসছি, এমন সময় পিছন থেকে ডাকলে
লাহাবাড়ির বারান্দা থেকে একরাশ মুখ ঝুঁকলো
সানাইয়ে অকাল-কাজরী আরোহে তখনও
সেই ডাকলে, কিছু লোক জানাজানি হলো

আজকাল মেঘ থাকে নিয়মের মতো পশ্চিমাস্য
মনখারাপের সূর্যাস্ত এ শহরে বিরল
যেমন বিরল করেছ কাঁধের সূক্ষ্মতমা তিল
ওড়নার আবছায়ে

বঞ্চনা সব পুরুষকে পুরুষকার বানায়নি
ইতিহাস সেরকমই বলে
একটা ছেঁড়াফ্রক কিশোরী ভাইকে নিয়ে রাস্তা পার হলো
একটা ভোকাট্টা চাঁদিয়াল ইতিহাস পার হলো
তুমি চিরদিন ট্রামলাইনের ওপারেই

তাই ফিরে আসছি
এমন সময় পিছন থেকে ডাকলে
রাজবাড়ির গেটে একরাশ কৌতুহল
সানাইয়ে কাজরী থমকেছে সবে

সেই ডাকলে, শুধু কিছু লোকজানাজানি করে


কিছুটা বিশদ হোয়ো এইবার...

যেখানে থমকে গেল যাবতীয় গান, কথামালা

সেইখানে ঝোঁকো যদি জলের দর্পনে
পরিচিত মুখ আশা করে নিবিড় শিথিল রাখো গ্রন্থি, মেখলা
নুড়ির শান্ত বিসর্পণে কেঁপে যাবে বিম্বিত মুখ, দেখো!
পটভূমিকায় থাকা মৌন বটের ঝুরি ভেষজের মত কাছে এসে
বলে যাবে নিরাময়, অথবা নিরুদ্দেশে
উড়ে যাওয়া আমাদের আলাপের পাখী
আবার নতুন করে বাসার স্বপ্ন নিয়ে ফিরে আসে যদি
তাকে তুমি শাখা দিও এইবারে, পিঞ্জর নয়, জোনাকি
সারারাত আজও জ্বেলে রাখে নিরবধি
অভিসার সংকেত
উড্ডীন হলুদ নিশান নিয়ে দূরে ডাকে সরষের ক্ষেত...



এইখানে থমকেছে অন্তরা-সঞ্চারী পয়ারের পদচারনারা
পঙক্তিসুখী অনুপ্রাস ফিরে গেছে, আঙুলের অভ্যাসে করাঘাত বৃথা কড়ানাড়া
তাও ক্রমে ফুরাবে যেদিন
জলের দর্পনে ঝুঁকে খুঁজে পেলে আমার ঠিকানা
কৃপণা ভীষনই, জানি, তবু তুমি ভরো চিঠিখানা
জমানো অক্ষর দিয়ে, ভেবে নিয়ে বাজে তখরচ
তুমি কিছুটা বিশদ হোয়ো এইবার...



আমি তো পারিনি ছুঁড়ে ফেলে দিতে শঙ্খবলয়!

অসহায় লাগে খুব যেন খুব মেঘ করে আসে

বাড়ি থেকে বহুদূর চলে এসে পথ ভুলে যাওয়া
যতটা ধূসর
অসহায় লাগে যেন জেগে আছি একা বালুচর
কোথাও গাছালি নেই থমকেছে হাওয়া
যেন আর ফিরে যাওয়া পান্থনিবাসে
খুব দূরপরাহত আজ যেখানে তুমিও ঘুমে শাদাবিছানায়
তোমাকে ডাকবো তুমি শুনবেনা কোনওদিন একা একা কাঁটাঝোপ গুল্মছায়ায়
হাঁটছি তোমাকে ছাড়া বকেয়া জীবন...



অসহন লাগে খুব যেন শীতে পত্রমোচীবন
হিমের অছিলা করে বাকল বদলে নিল, নিল কিশলয়
আমি তা পারিনা কেন, আমি তো পারিনি ছুঁড়ে ফেলে দিতে শঙ্খবলয়!



কলস্বনা গো!

বাঁশীর ভিতর শূণ্যতাগুলো হাওয়া থেকে নেয় সরগম টেনে 

আমার ভিতরে সাতসুর ছিলো, ঠোঁট দিয়ে তুমি বাজিয়ে দেখোনি



আমার ভিতর টানটান ছিলা, তানসেনী তোড়ি
মিজরাব খুলে আমাকে ছোঁওনি, বাজিয়ে দেখোনি



মেঘ চলে গেলে বৃষ্টিশ্রান্ত পুবদিগন্ত,
তাকিয়ে দেখোনি, সাতরঙ ছিলো
সূর্যের আলো সাদা ছিলো বলে অবিশ্বাসিনী 
রামধনুটাকে গল্পকাহিনী 
ভেবে নিয়েছিলে 



তাঞ্চোই শাড়ি, অঞ্চল ক্ষীণা 
ধরবে কি করে উঠলে দখিনা 
উড়ে আসা ফুল, পেরজাপতিটি



কলস্বনা গো, হয়না প্রতীতি 
বাজ না পড়লে? তড়িল্লেখাতে 
ঝড় বলা ছিলো, পড়তে শেখাতে 
কাছে যে এসেছি! দক্ষিনা দিও!





অণুকবিতা
১।

যার কাছে যাবে বলে টিয়ারঙ মাখলে শরীরে
আঁচলে ময়ূর, নাকি হৃদয় হয়েছে নট? পঞ্চম তিরে
নিশানা সঠিক আছে? সে জানে গোপন অভিসারে
তার কাছে নির্মোক যাবে? সর্পিনী, বলেছ তাহারে?

২।
লোহিততপ্ত করেছ নিজেই, এখন আঘাতে আঘাতে
সব ওঠাপড়া সমতল করা বাকী।
শানিত কৃপাণ হতে পারি, পারি পালটা আগুন লাগাতে,
পানশালা গেলে, কোথায় ঢালবে, সাকী?
৩।
যাকিছু বিস্রস্ত, হীন, তোমাকেই দেওয়া যেত সব
কোজাগরী ভোর থেকে শিশির আর শিউলির শব,
দূর্বায় হীরেমোতি, কলপাড়ে বয়ে যাওয়া জল, পাখীরব,
এখন যে কাকে দিই! প্রদীপ নিভেছে, মা গো! এখনও কি ফুরালোনা স্তব!
৪।
খুব দ্রুত চলে গেলে কেউ
দিগন্তরেখায় থেকে সূর্য তাকে দেখে নেবে রোজ।
কেউ না উদাস হলে, বেখেয়ালে সাজানো আকাশ, নদীটির ঢেউ

নষ্ট হয়ে যেতে যেতে তবু নেবে খোঁজ---

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

CSS Drop Down Menu
আমাদের লেখা পাঠান careofsahitya@gmail.com- এ মেল করে।