কবি: আলফ্রেদো পেরেস আলেনকার্ত
দেশ: স্পেন
ভাষা: স্প্যানিশ
[ কবি, প্রাবন্ধিক ও স্পেনের সালামানকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'কাজের অধিকার' বিষয়ের অধ্যাপক।
জন্ম লাতিন আমেরিকার পেরুর পুয়ের্তো মালদোনাদো শহরে ১৯৬২ সালে। ১৯৮৭ থেকে সালামানকায় অধ্যাপনা। ২০০৫ এ নির্বাচিত হন 'আকাদেমিয়া কাস্তেইয়ানা' ও 'লেওনেসা দে লা পোয়েসিয়া'র সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ থেকে ইবেরো-আমেরিকান কবিদের সভার সংগঠক, বাৎসরিক ফুন্দাসিয়ন দে সালামানকা সিউদাদ দে কুলতুরা' উৎসবের পরিচালক। অতিসম্প্রতি কারাকাস শহরে আন্তর্জাতিক কবিতা পুরস্কার 'মেদাইয়া ভিসেন্তে খেরবাসি'তে ভূষিত হয়েছেন, ২০০৯ এ পেয়েছেন 'হুয়ান দে বানিও' কবিতা পুরস্কার। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কবিতার বই: ' বানানের ইচ্ছা' (২০০১), 'মা সেলভা' (২০০২), 'আমাপারো বিদোনের তৃতীয় পুত্রের প্রতি অর্ঘ' (২০০৩), 'আত্মার চামড়ায় ঢাকা পাখি' ( ২০০৬), 'কর্মরত মানুষ' ( ২০০৭), 'আত্মার খ্রীষ্ট' (২০০৯), 'সাভিয়া আন্তিপোদিয়ান' (২০০৯), 'শোনো হে ভাইসকল'(২০০৯)। তাঁর কবিতা অনুদিত হয়েছে পোর্তুগিজ, জার্মান, ইংরাজী, রুশ, ইতালিয়, জাপানিজ, হিব্রু, বুলগেরিয়, এস্তোনিয়, ভিয়েতনামিজ, কোরিয়ান, রুমানিয় ও ইন্দোনেশিয় ভাষায়। এই প্রথম অনুদিত হল বাংলায়। কবির লেখা নিয়ে একটি দীর্ঘ বই লিখেছেন ভেনেসুয়েলার লেখক এনরিকে ভিলোরিয়া, বইটির নাম 'পেরেস আলেনকার্ত: আশ্চর্য কবিতা'। ]
![]() |
| আলফ্রেদো পেরেস আলেনকার্ত |
অনুবাদক: মৈনাক আদক
কুয়াশার আড়ালে হারিয়ে যায়
তোমার
রক্তাক্ত
শব্দাবলী ।
তাদের
গভীর থেকে
আর বেরিয়ে আসে
সেই শব্দাবলী
যারা আঘাত হানে
অভিগমন করো
আরও
আলোকিত
মাটির পানে,
সেই পথে
যে পথে তুমি কখনো
হারিয়ে যাওনি।
পূর্বাভাস
দূরবর্তী,
কম্পমান
ডালপালার উচ্চতায়
হামিংবার্ডের
নিঃশব্দ উড়ানে,
জানায়
তার সু-সংবাদ
পূর্বাভাস।
এভাবেই
কিছু পাক খায়
ধোঁয়ার
মতো যে হাওয়া আর
আছড়ে
পড়ে না।
অনন্ত
আকাশে
মধু
আর ছাইয়ে লেখা
বার্তা
পড়ি।
সুদৃঢ়
সূর্যোদয়
রাস্তা
খুলে দেয় প্রারব্ধ
প্রত্যাবর্তনের
জন্য।
আমার
শিরায়-শিরায় ওড়ে এখন
হামিংবার্ড।
যখন ওয়াল স্ট্রীট ভেঙে পড়ে
আমার
কখনো ছিল না
আজও
নেই
অর্থপ্রাপ্তির
কাজকর্ম
এতটুকুও
আমার
ভোগদখলে শুধু
বাতিলপ্রায়
দুই
দরজার একটা গাড়ী,
আর
সস্তার একটা ফ্ল্যাট
আমার
ছোট্ট শহরের
উপকণ্ঠে
স্বীকার
করি, দিশেহারা
লাগেনি
আমার
যখন
সংবাদের শিরোনামে চোখ রাখি:
"নিউ
ইয়র্কের শেয়ারবাজারে
কালো
সোমবার"।
আর
টর্মসের পাড়ে বসে
প্রাতঃরাশ
সারি চুপচাপ,
যখন
ভেঙে পড়ে
ওয়াল
স্ট্রীট।
বাড়ি ফেরা
একটা
কুকুর শুঁকেছিল
আগন্তুক
আমার পোশাক
দীর্ঘ
ভ্রমণের শেষে।
অতীতে
ফিরে তাকানো নয়।
গতকাল
এসেছি
গ্রামের
প্রবেশদ্বারে
কিন্তু
কুকুরটা
ছাড়ে
না আমায়।
যদিও
ওকে
দেখালাম আবেগপ্রবণতা
বা এখানকার ঠাকুর্দার
ছবি।
দুহাত
ছড়িয়ে
এই
মাটিতে
অতর্কিতে
আক্রমণ করল আমায়
অভিবাদনের
শাখাপ্রশাখায়।
আন্তরিকতা
একটি
মাকড়সার জাল
ধাবমান,
দিগন্ত
আড়াল করার
স্বপ্নপূরণ
করছে।
কিছু
নোংরা হাত
আর
বেশিটাই
অনাগ্রহ।
আর
তুমি
খুঁজছো
বিতৃষ্ণা আর
ব্রণ
অপসারণের উপায়
যারা
চাপিয়ে দেয় তাদের পছন্দ-অপছন্দ।
সৎ
হওয়ার জন্য
এ
সেই দুর্বলতা
যা
তোমায় শক্তিশালী করে।
পোস্টার
রাস্তায়
একটা লোক
পোস্টার
দেখায়: "চাকরী নেই
খাবার
নেই"।
জবরদখলের
সময়, চোখ বন্ধ করে
আর
ঠোঁট কামড়ায়
অবিরত।
চেয়ে
থাকি চলে যাওয়ার শেষ পর্যন্ত
কেননা,অনেক
আগেই
সে
ক্লান্ত-বিপর্যস্ত।
তাহলে
এবার সাহায্যের হাত বাড়ানো যাক:
এটাই
উপস্থাপনযোগ্য।
[
সব কবিতাগুলি কবির 'যেভাবে পথ চলি' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া, প্রথম কবিতাটি মুখবন্ধের
শিরোনামহীন কবিতা। ]


.jpg)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন