আমাদের লেখা পাঠান careofsahitya@gmail.com-এ। ভালো থাকুন সকলে। চলতে থাকুক কলম। বলতে থাকুক শব্দ।

প্রচ্ছদ

A SAHITYA-ADDA Initiative C/O:sahitya A BLOG MAGAZIN STAY WITH US THANK YOU
bloggerblogger

বুধবার, ১৮ জুন, ২০১৪

ধারাবাহিক উপন্যাসঃ এক আকাশের ঘুড়ি / সৈকত মান্না


                                                                   ৫
                
                 নেকদিন পর আজ আবার ভোরের বটতলাটা দেখল শান্তনু। রাস্তাঘাট ফাঁকা, চারিদিকটা একটু বেশীই উজ্জ্বল সবুজ, ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব, যদিও পরপর দুদিন বৃষ্টি হয়নি। ওরা হেঁটে যাচ্ছে স্টেশনের দিকে। ওরা মানে শান্তনু, রোহিত, অভিষেক আর তমাল। তমাল আজ ব্যাপক স্টাইল মারছে, হাতে রিষ্ট ব্যান্ড, পায়ে স্পোর্স সু। অভিষেক বরাবরই শান্ত ধরণের, ও কি যেন একটা ভাবছে আর হাতের ব্যাটটাকে হাওয়াতে ভাসা অদৃশ্য কাল্পনিক বলে হিট করছে। রোহিত ওর সাইকেলটাকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শান্তনুর এখনও আলসেমি কাটে নি, কাল অনেক রাতে ঘুমিয়ে ছিল আর ভোর না হতেই এদের উৎপাত। শান্তনুকে বাড়ী  থেকে তুলে এনেছে অভিষেকরা। পাঁচটা নাগাদ বাড়ির সামনের গলিতে রোহিতের গলা শুনেই মা খোঁচা দিয়েছিল ওকে। চশমাটা চোখে গলিয়ে দরজা খুলে দেখেছিল বাইরে রোহিতরা, হাতে যুদ্ধের সরঞ্জাম, মানে আজ ওদের একটা ক্রিকেট ম্যাচ আছে, তাই ব্যাট, উইকেট এইসব আর কি। তাই শান্তনুকে দরকার, সে ওর ঘুম মাটি করেই হোক না কেন। তারপর এখন ও এই স্টেশন রোডে। আবার বিছানা ডাকছে শান্তনুকে, বিছানার কথা ভেবেই ও এমন একটা হাই তুলল দেখে মনে হল যেন ওর কতদিনের ঘুম বাকি আছে। পাশ থেকে তমাল ফোঁড়ন কাটল, “ কি রে, এই অবস্থা নিয়ে তুই খেলবি? আজ কিন্তু কাঁপাতে হবে।
-দোত!!! চুপ করত, সক্কাল সক্কাল তুলে এনে আবার ফ্যাচর ফ্যাচর।বলেই শান্তনু একবার অভিষেকের দিকে তাকাল,  ও আবার আজকের খেলাটাকে নিয়ে একটু সিরিয়াস। আসলে আগের হোম গ্রাউন্ড-এর ম্যাচটা ওরা হেরে গেছে। সেদিন শান্তনু খেলেনি, বাড়ী ছিল না ও। তাই আজ ওদের জিততেই হবে। ওরা যাবে ফাঁড়ির দিকে। স্টেশনে অরিত্র, টুকাই আর সাগর এতক্ষণে চলে এসেছে আর প্রতীকের ফাঁড়ির মাঠেই দাঁড়ানোর কথা আছে। প্রায় স্টেশনের কাছা কাছি চলে এসেছে ওরা। রোহিত কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো, কিন্তু তার আগেই কানে এলো স্টেশনের প্রথম অ্যানাউন্সমেণ্ট, ট্রেনটা ঢুকছে। শুনেই অভিষেক, তমাল আর শান্তনু দৌড় মারল, ট্রেনটা ধরতেই হবে। রোহিত পড়লো মহা ফ্যাসাদে ওর তো সাথে সাইকেল। ও সাইকেলেই উঠে পড়লো।
     হ্যাঁ, শান্তনুরা ট্রেনটা পেয়ে গেছে, রোহিত ও পেয়েছে। ও সাইকেলটা গ্যারেজ করে এসেছে। কামরার ভেতরে সবাই বসে আড্ডা মারছে মূলত ম্যাচটা নিয়েই। শুধু ট্রেন-এর দরজায় দাড়িয়ে দুজন শান্তনু আর অরিত্র।
-         কিরে সানু, ওরা তোকে ফ্রেস হতেও দেয়নি না?”
শান্তনু একবার ওর দিকে তাকাল। সানু বলে ওকে খুব কমজনই ডাকে, কিন্তু অরিত্র ওকে বরাবরই সানু বলে... সেই ছোট্ট বেলার বন্ধু বলে কথা।
-         এই খেলাটা ঠিক কাদের সাথে রে?”
-         প্রতীকদের পাড়ার সাথে।
-         অ্যাঁ!! প্রতীকদের পাড়া? কিন্তু ও তো আমাদের হয়ে খেলছে শুনলাম।
-         ধুর! প্রতীক তো পাড়ার থেকে আমাদের সাথেই বেশী থাকে।
-         তাও ঠিক...শান্তনু হয়ত আরও কিছু বলতো, কিন্তু তার আগেই ওর কাঁধে পিছন থেকে একটা হাত রাখল অভিষেক।
-         ভালো করে খেলিস আজ, তোকে দরকার।
শান্তনু শুধু বলল, “ দেখা যাক।

         রান আপ লাইনে শান্তনু। হাতে একটা নতুন সবুজ ডিউস। পাশে অভিষেক কিছু একটা বলছে যেটা কিপ থেকে অরিত্র শুনতে পেল না। কিপ থেকে বিরক্তি ভরা গলায় অরিত্র চেঁচিয়ে বলল, “এই তাড়াতাড়ি শুরু করত।অভিষেক নিজের ফিল্ড-প্লেসে চলে গেলো।
রাইট হ্যান্ড, ওভার দা।শান্তনু এবার বল করবে। একবার মাঠটায় চোখ বুলিয়ে নিল। ফিল্ড সেট আপ মোটামুটি ঠিকই আছে। আটজনে খেলা, বোলার আর কিপার বাদ দিলে ছয়জন, চারটে বাউন্ডারি লাইনে আর দুজন ক্যাচিং পজিশনে, ওর নিজের পছন্দ মতই আছে। শান্তনুর একটু ভয়ও করছে যতই পাড়ার খেলা হোক, প্রথম ওভার এর আগে কোনদিনও যায়নি, বাজে বল করলেই তো আবার মাতৃভাষা প্রয়োগ হবে। যা হবে দেখা যাবে , রানআপ নিল শান্তনু, প্রথম বলটা ঠিক করতেই হবে।  ডেলিভারি ছেড়ে দিয়েছে। গুড লেন্থ বল অফ স্ট্যাম্পের অনেকটা বাইরে দিয়ে বেরিয়ে অরিত্রের হাতে। আবার দৌড়। হাতটা কানের পাশ দিয়ে ঘুরে বলটা ছেড়ে দিল, এবারও অরিত্র হাতে কিন্তু ব্যাটসম্যানের পিছন দিক দিয়ে, ওয়াইড।
শালা, এই তোর শুরু হল তো?” তমালের গলা কানে এলো। শান্তনু ওকে হাত দেখিয়ে আবার রান আপে । এরপরের বলটা আবার একই জায়গায়, ব্যাটসম্যান সুইপ খেলল, বলটা মুহূর্তের জন্য শান্তনুর চোখের আড়ালে, তারপর অরিত্রর গলা, “সাবাস! বোল্ড।”  শান্তনু অবাক, বলটা এতটা সুইং খেল !!!
এবার ওর থার্ড ডেলিভারির সামনে নতুন ব্যাটসম্যান, তার এমন শরীর যে উইকেটটাই দেখা যাচ্ছে না। বলটা আবার সেম জায়গায়, সেম শট, সেম সুইং আর সেম বোল্ড। এবার শান্তনু চিৎকার করে উঠলো, “বোল্ড !!!একটা উচ্ছ্বাস, একরানে দুই উইকেট আর একটা হ্যাট্রিক চান্স। এরকম সুযোগ এই প্রথম। রান আপে যেতে যেতে শান্তনু মনে মনে ভাবছে বলটা  উইকেটের লাইনে রাখতেই হবে, কিন্তু হল না, উইকেটের লাইনে হল না, অফ স্ট্যাম্পের বাইরে... ব্যাটসম্যান ড্রাইভ করতে গেল... বলটা ব্যাটের কানায় লেগে ইন হচ্ছে... উইকেটে... প্লে ডাউন !!!আবার উইকেট আর এবার হ্যাট্রিক। বন্ধুদের চোটপাট, সাবাশির ঝুরি সহ্য করতে হল। বাকি দুটো বল কিছু হল না, বিট, যদিও উইকেট নেবার নেশা হয়ে গেছিল।
এবার শান্তনু ফিল্ডে প্রতীকের জায়গায় গিয়ে দাঁড়াল  কারণ ও বলে গেছে। মনে একটু আনন্দ, জীবনের প্রথম হ্যাট্রিক বলে কথা হোক না পাড়ার ক্রিকেট। একবার চোখ বুলিয়ে দেখে নিল এ পাড়ার ছেলেগুলোকে, দেখতে চাইল যাদের আউট করল তাদের রিঅ্যাকশন। অনেকেই ওর দিকে এখনও তাকিয়ে আছে চোখে মুখে বিস্ময় নিয়ে। কিন্তু ওদের ছাপিয়ে অবাক হয়ে গেল শান্তনু নিজেই।  ছেলেগুলোর ভিড়ে কালো বারমুডা পড়ে সিগারেট খাচ্ছে অনি ! আর ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। এটা অনিদের পাড়া? শান্তনু তো জানতই না। অনিও আজ খেলছে নাকি? ফিল্ডিং করতে করতে শান্তনু আবার ওর সমস্যা গুলোয় ফিরে যাচ্ছিল কিন্তু আবার একটা হট্টগোলর মাঠে ফিরে এলো। আউট... তবে কি প্রতীক উইকেট নিল? না রান আউট, টুকাইের থ্রো থেকে। ওভার আপ। আবার শান্তনু বল করতে যাবে, কিন্তু না! ও নিজেই বারণ করল অভিষেককে। কারণ মাঠে ব্যাট হাতে অনি। শান্তনু কেমন যেন ভয় পেল, ও আর বলে যাবে না।
 অভিষেক তাই নিজেই গেল। অনি স্বচ্ছন্দে অভিষেকের বলগুলো ওড়াচ্ছে মাঠের বাইরে, এক ওভারে দুটো ছক্কা আর একটা চার হল। রান গিয়ে দাঁড়ালো তিন ওভারে একুশ। পরের ওভারে আবার ডাক পড়লো শান্তনুর। ও হাত দেখাল অভিষেককে, “পরে যাব।
-         কেন রে? তোর কি হল বলতো, ডোবাবি নাকি?”
-         না হাঁপিয়ে গেছি, পরে যাব বলছি তো।শান্তনু একরাশ বিরক্তি নিয়ে বলল। অভিষেক কি বুঝল কে জানে, ও টুকাইকে বল করতে পাঠাল। টুকাইের ওভারে একটা উইকেট পড়লো বটে কিন্তু অনি এখনও ব্যাটিং করছে। এই ওভারটাও শেষ, এবার তো শান্তনুকে যেতেই হবে। অরিত্র নিজে কিপ থেকে নেমে এলো, “কি ব্যাপার বলতো সানু? তুই কি অনি কে ভয় পাচ্ছিস?”
কথাটা তীরের মত এসে খোঁচা মারল সোজা মাথায়, “এই শোন আমি কাউকে ভয়টয় পাই না বুঝেছিস। দে বল দে আমি যাচ্ছি বোলিং করতে।
সবুজ ডিউসটা এতক্ষণে একটু ময়লা হয়ে এসেছে। ওটা আরও একবার শান্তনুর হাতে। সামনে অনি। শান্তনুর মনে হল অনি ওর দিকে তাকিয়ে একটা বাঁকা হাসি হাসছে। বলটা হাতে শক্ত করে ধরে রান আপটা নিয়েই নিল ও। বলটা শান্তনুর হাত থেকে বেরোচ্ছে সাথে একরাশ ক্ষোভ। অনি হয়ত শান্তনুর বলটা খেলতে পারত কিন্তু ক্ষোভ গুলোর জন্যই আর পারল না... অফ স্ট্যাম্পটা মাটি আলগা করে ছিটকে গেল একটু দূরে।
না শান্তনুর মধ্যে কোন বাড়তি উচ্ছ্বাস নেই। একটা অগ্নিগর্ভ চোখ নিয়ে ও শুধু অনিকে দেখছে আর তর্জনী কথা বলছে, “যা বাড়ী যা।
 
বলটা শান্তনুর হাত থেকে বেরোচ্ছে সাথে একরাশ ক্ষোভ
                                                                 ৬

                        এই নিয়ে চারটে সিগারেট শেষ করল অনি। মাথার শিরাটা রাগে দপদপ করছে। শালা, ঐটুকু একটা ছেলে, যে কিনা আজও সাদা জামা কালো প্যান্ট পরে রোজ স্কুলে ছোটে সে আজ অনির্বাণ রায় চৌধুরীকে আঙ্গুল তুলে দেখানোর সাহস পায়। অনি ভালো করেই বুঝতে পেরেছে ছেলেটা কেন ওকে ইশারা করেছিল। আজ সকালের ম্যাচটা অনিরা হেরে গেছে। ওই শান্তনু ছেলেটাই তো ম্যাচটা উড়িয়ে নিয়ে গেল, সাতটার মধ্যে পাঁচটা উইকেটই তো ওর। ম্যাচ হারা জেতাটা গায়ে লাগে না। কিন্তু অনির্বাণের পেছনে লাগার ফল শালাকে ভুগতেই হবে।
-         এই তখন থেকে কি ধোঁয়া ছাড়ছিস বলতো? শো টা দেখতে যাওয়ার আদেও ইচ্ছা আছে তো?”
বাঁদিকে তাকাতেই অসিতের মুখটা এলো অনির চোখের সামনে, অসিত এক নাগাড়ে মুখ চালাচ্ছে, মনে হয় চুইংগাম খাচ্ছে। অসিত অনির বহু পুরনো বন্ধু ওরা একসাথেই স্কুল পাশ করেছে আর এখন একই কলেজে পড়ছে।
-         কোথায় বলতো?”
-         যাহ্‌ গুরু। আরে পোদ্দার পাড়ায় আজ ফাংশান না, শুনেছি জিৎ গাঙ্গুলি আসছে যাবি তো?”
-         ও হ্যাঁ চল। আগে বাড়ী যাব ভাইকেও বাড়ী থেকে তুলে নেব।
পার্কের রেলিং থেকে নেমে অনি পালসারটা স্টার্ট দিল পেছনে অসিত চড়ে বসল। স্পীড তুলেই পার্কটাকে একবার চক্কর মেরেই মিত্তির বাড়ির পাশের রাস্তাটা ধরল। মিত্তিরদের গলিতে আজ তিথির পড়া থাকে, যদি একবার দেখা পাওয়া যায়। সাতটা থেকে পড়া এখন প্রায় পৌনে সাতটা বাজে, আকাশের সব আলো মুরিয়ে এসেছে। চাঁদটাও মেঘে মোড়া। বর্ষাকাল তাই সারাক্ষণ চাঁদটাও যেন একটা চাদর জড়িয়ে বসে আছে। গলিটা আজ বড্ড অন্ধকার, ল্যাম্পপোস্টের আলোটা মনে হয় আবার চুরি গেছে, তাই হেড লাইটটা জ্বালাতেই হয়েছে। ও বাইকটা চালাচ্ছে বটে কিন্তু মাথাতে বারবার ওই ছেলেটাই ঘুরেফিরে আসছে। অনি প্রথম থেকেই জানত শান্তুনু তিথির বয়ফ্রেন্ড। অনির ভাই তিথির সাথে অঙ্ক ব্যাচে একসাথেই পড়ে। ভাইয়ের সাথেই তিথিকে প্রথম দেখে অনি। তারপর খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারে শান্তনুর সাথে তিথি এনগেজ। কিন্তু তাতেও ওর কিছু যায় আসেনি, অনির ক্যালিটাই আলাদা। যেমন আর পাঁচটা মেয়ের সাথে অনি ফ্লাট করে তেমন তিথির সাথেও করা শুরু করেছিল অনি ভালো করেই জানে এই ক্লাসমেট টাইপের রিলেশনশিপ গুলোয় একবার না একবার ইগো ক্ল্যাস হয়েই আর সেই ফায়দাটাই অনিকে তুলতে হবে।
অনি অনেক কষ্ট করেই ওর ভায়ের থেকে তিথির পুরো বায়োডাটা জোগাড় করেছিল আর তারপর ফ্রেন্ডশিপ করতেও বেশ কসরত করেছিল। প্রায় মাসখানেক ধরে পেছনে পড়ে থাকার পর তিথি কথাবার্তায় সড়গড় হয়ে ছিল। আর তারপর একদিন......
-         এই দাড়া, ব্রেক মার।   
অনি আচমকাই ব্রেক মারল, অসিত টানে ওর ঘাড়ের ওপর এসে পড়ল।    কি হল আবার?”
-         না গুরু, পিংকির সাথে কথা বলেই এখুনি আসছি। একটু ওয়েট কর বস, প্লিজ।
-         কোথায় পিংকি?”
-         আরে ওই তো ছেড়ে এগিয়ে এলি।
অনি পিছনে ফিরে দেখল হাত সাতেক দূরে দুটো মেয়ে দাড়িয়ে আছে। একটা অচেনা মেয়ে তার সাথে অসিতের পিংকি। লাল রঙের স্কাটের ওপর একটা কালো রঙের টপ চড়িয়েছে আজ। অনি মনে মনে ভাবল, সাজের কি বাহার, যতসব নেকি।
    অসিত ওদের সাথে গ্যাজাচ্ছে দেখে ও পকেট থেকে মোবাইলটা বার করে একবার চেক করে নিল কোন ম্যাসেজ আছে কিনা। না, শুধু ডেট আর টাইমটা হাঁ করে চেয়ে আছে মোবাইল স্কিনে। মোবাইলটা ঘাটতে ঘাটতেই মনে পড়লো তিথিকে একটা ফোন করলেই তো হয়আশেপাশেই কোথাও আছে, টুক করে একবার দেখা করে নেওয়া যাবে। ফোনবুক থেকে তিথির নাম্বার বের করে কল করল, ওপ্রান্তে কলার-টিউন বাজছে...
-         হ্যালো...
-         হ্যাঁ, তিথি... কোথায় আছ?”
-         পড়া আছে আজকে।
-         জানি, পড়তে এসেছ?”
-         হ্যাঁ, যাচ্ছি।
-         একটু দেখা করবে, পাঁচ মিনিটের জন্য? মিত্তিরদের গলিতে আছি।
-         আচ্ছা... আসছি।বলেই ওপ্রান্তের জন লাইনটা কেটে দিল।বেশী অপেক্ষা করতে হল না। মিনিট পাঁচেক-এর মধ্যেই তিথি এলো সাথে ওর বেস্টফ্রেন্ড সুরভি। এদিকেঅসিত এখনও ওর পিংকির সাথে প্রেমালাপ করছে। কিন্তু সেসব কিছুই দেখল না অনি। তিথির সামনে গিয়ে ও ফিল্মি স্টাইলে বৃষ্টি ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে গলিটাতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো। এসব দেখে তিথি কিছু বুঝে উঠে বলার আগেই তিথির চোখে চোখ রেখে অনি বলে ফেলল, “ আই লাভ ইউ তিথি, ডু ইউ.........”  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

CSS Drop Down Menu
আমাদের লেখা পাঠান careofsahitya@gmail.com- এ মেল করে।