ফিরোজ এর মনে পড়ে নেইমারের সব অবিশ্বাস্য গোল,
মনে পড়ে লুকাসকে... একজন, দুজন এইভাবে চারজনকে কাটিয়ে বক্সের মধ্যে গোলকিপারের
পায়ের তলা দিয়ে বলটা ঠেলে দিল নেইমার। লুকাস প্রায় মাঝমাঠ থেকে একা বল টেনে গোল
করে পাগলের মত ছুটছে... ফিরোজ স্টেডিয়াম এর দিকে দেখল। এত লোক হলুদ রঙ্গের জার্সি
পড়ে এসেছে ! ওরাও সবাই হয়ত ওই গোল গুলোই মনে করছে , ওইভাবে আরও অনেক গোল । স্টেডিয়াম চিৎকার করছে- ব্রাজিললল... ব্রাজিললল
... আসলে বিশ্বকাপ ফুটবল মানে তো শুধুমাত্র দুটো দেশের মধ্যে
খেলা নয়। দুটো দেশ একদম সামনা সামনি দাঁড়িয়ে, দুটো দেশের সমর্থক
সামনা সামনি দাঁড়িয়ে , দুটো দেশের জাতীয় সঙ্গীত সামনা সামনি দাঁড়িয়ে। বিশ্বকাপ
মানে কাঁদতে কাঁদতে পাশের অচেনা লোকটাকে জড়িয়ে ধরা, চুমু খাওয়া,চিল চিৎকার ...
ফিরোজ ক্লাবে চিৎকার করত – ব্রাজিললল...
ব্রাজিললল। আজকেও ফিরোজ চিৎকার করবে, গলা
চিড়ে না যাওয়া পর্যন্ত । ফিরোজ মাঠ দেখছে, লোক দেখছে। পাশে ব্রান্ডন ফারনান্ডেজ, থুইব সিং , কৌশিক, সৎপাল...
সবাই বুকে হাত রাখল,জাতীয় সঙ্গীত শুরু হবে । ফিরোজের অসম্ভব জোরে জোরে গানটা আসছে। এতক্ষনে
স্টেডিয়াম জানাচ্ছে- নীল রঙ কম নেই । প্রচুর নীল ঝাঁকে ঝাঁকে নীল, স্তম্ভ হয়ে উঠে দাঁড়াচ্ছে । ওই স্তম্ভ থেকে
ঠিকরে বেরোচ্ছে ফুটবলে অতি অপরিচিত জাতীয় পতাকা।
দু’দেশের অ্যান্থেম শেষ । হাত মেলাচ্ছে ফিরোজ,
নেইমার , লুকাস , ব্রান্ডন...
ফিরোজ হাসছে , হাঁসি থেকে ছিটকে যাচ্ছে নেইমারদের
জন্য প্রতিপক্ষের সৌহার্দ্য, প্রতিপক্ষের জেদ।
সুদূর স্পেন থেকে ভেসে আসছে - ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া..... ইন্ডিয়া,ইন্ডিয়া... একশো
কোটির ইন্ডিয়া ।




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন