তিন-সন্ধ্যে নামে।
'গতস্য শোচনা'মুখর নিয়নীয় গোধূলি হাত বুলিয়ে দিলে , রাস্তা-রা ফিরে যায় সড়কপাড়ায়...
রাস্তার দুইপারে বিচ্ছেদ ভারাক্রান্ত বাড়ি-দোকানপাট অন্ধকারের আগে পরেজড়িয়ে ধ'রে নিঃশব্দে কাঁদে......... আরো একটু সন্ধ্যে গাঢ় হলে সৃষ্টিরআদিকালের স্মৃতি-রোমন্থন করে ; তারও পরে, জড়িয়ে আসে সকল উচ্চারন।
পাঁচিলের গায়ে বেড়ে ওঠা অশত্থ , বট , আগাছা সারাদিনব্যাপী কর্তব্য পালনেরপর , জোনাকীর মত চিকমিক করে তাদের যাবতীয় প্রাকৃতিক ক্লান্তি... শিশুরব্যক্তিগত জানালায় সুদূর প্রিয় তারাটি হয়ে ফোটে...।
শিসে ভেসে আসে চির-দুঃখী রফি সাহবের গান
ঘুমিয়ে পড়া রাস্তা দের গুমোট ধূলোর চাদর থেকে
"চাহুঙ্গা ম্যেয় তুঝে শাম স্যবেরে......"
দশ-বারো হাত ছাড়া ছাড়া বাড়ি থেকে ভেসে আসে
কেঁপে ওঠার শব্দ...কবিতা ভাঙে - গড়ে আপনমর্জি
মত।
দশ-বারো হাত ছাড়া ছাড়া বাড়ি থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসে তুমুলসাংসারিক অশান্তি । ছেলে বেরিয়ে যায়। বাপ বেরিয়ে যায়। মেয়ে পালায় ।কাঠবেড়ালি , গাছ ও উঠোন বদল করে...
রাত গড়ালে , সকলে ফিরে আসে... হাঁড়ির ভাত খালি হয়ে যায়... কাঠবেড়ালি নিয়ে যায় ফেলে দেওয়া এক-দুটো টুকরো।
পূর্ব -উল্লিখিত বাড়িগুলোর ছাদ ভারী হয়ে ওঠে, নতুন নতুন পুনর্লিখিত হয়কিছু জাগতিক কান্না... পাঁচিলে যে সব তারা বসত গড়েছিল একদা , নির্বোধশিশুর চোখে তাদের একত্রে কোলাহল মাঝরাতের সড়কপাড়ায় লুটোপুটি খায়...
শিশু ঘুমিয়ে পড়ে।
ঢুলু ঢুলু আধবোজা চোখে শেষ ভেসে ওঠে -
মায়ের করুণ মুখ...
কবিতা- কবির চেয়েও ইয়া বড় হাঁ তার যন্ত্রনা।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন