আমাদের লেখা পাঠান careofsahitya@gmail.com-এ। ভালো থাকুন সকলে। চলতে থাকুক কলম। বলতে থাকুক শব্দ।

প্রচ্ছদ

A SAHITYA-ADDA Initiative C/O:sahitya A BLOG MAGAZIN STAY WITH US THANK YOU
bloggerblogger

রবিবার, ১৮ মে, ২০১৪

সম্পাদকীয়ঃ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২১


“সুহৃত্ মিত্র অরি উদাসীন মধ্যস্ত দ্বেষ্য বন্ধুষু ॥
সাধুষু অপি চ পাপেষু সমবুদ্ধিঃ বিশিষ্যতে ॥৯॥”

-    যিনি সহৃত্ মিত্র শত্রু উদাসীন মধ্যস্ত মত্সর বন্ধু ধার্মিক ও পাপাচারী এবং সকলের প্রতি সমবুদ্ধি তিনিই শ্রেষ্ঠতা লাভ করেন।

জ্যৈষ্ঠ,১৪২১    প্রচ্ছদ শিল্পীঃপুস্পেন্দু অধিকারী      মে,২০১৪
            সারাদেশ জুড়ে সরকার নির্বাচনের মহা-কর্মযজ্ঞ সবে শেষ হয়েছে। ত্রিশ বছর পর ভারতবাসী কেন্দ্রে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ এক সরকার পেয়েছেন। এই বিষয়টি নিতান্তই আশার ইঙ্গিতবাহক। এতদিন কার জোট-সরকার যেকোনো কর্মকাণ্ডে শরীকী দলগুলোর উপর দোষের বোঝা চাপিয়ে চুপচাপ বসে থাকার কুঅভ্যাস থেকে দেশ ও দেশবাসী হয়তো মুক্তি পেল। তবে কোথাও কোথাও বিরোধী শূন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেল যা রাজনীতির পক্ষে অত্যন্ত নেতিবাচক বলেই মনে হয়। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক তরজা অত্যন্ত জরুরী। এর ভিতর দিয়ে মানুষ তার মতামত প্রকাশ করতে পারেন। শাসক দলের গঠনমূলক কাজে বিরোধীদের সহযোগিতার হাত যেমনটি কাম্য, ঠিক তেমনি জনগণের প্রতি অসৌজন্য, অভব্যতা, কুশাসনের প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়াটা গণতন্ত্রের পক্ষে মঙ্গলজনক। কোটি কোটি মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সুনির্দিষ্ট করতে শাসকের সাথে সাথে বিরোধীদেরও সদর্থক ভূমিকা থাকা দরকার। যেখানে বিরোধীহীন, রাজনৈতিক কারণেই স্বৈরাচার আসাটা খুবই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে সরকারকেই সজাগ থাকতে হবে। আপামর জনতার আশা মেটানোর জন্যে যে বিপুল পরিমাণ জনাদেশ তারা পেয়েছেন মানুষের প্রতি যেন তার সৎ ব্যবহার হয় তার খেয়াল রাখতে হবে।

উৎকট বৈষম্যের যে বিষুবরেখা সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে তার দংশন থেকে দেশ ও জাতির মুক্তি ঘটাটা অত্যন্ত জরুরী। শোষণ অপশাসনের দুর্মর ধারাবাহিকতার যে ইতিহাস চলে আসছে বেশ কিছু কাল থেকে তাতে দেশ স্বাধীন হয়েও যেন মনে হয় আমরা নিজেদের কাছে পরাধীন। সংবিধানের মৌলিক অধিকার রক্ষা করার দায়িত্ব কার? সরকার আপামর জনগণের পিতা হিসাবে সেই দায়িত্বটুকু গ্রহণ করুক। একটি মানুষও অনাহারে থাকা শিকলের একটি দুর্বল লিংকের মতো। সমগ্র জাতির উন্নতির জন্যে যে ওয়েক-আপ-কল পেয়েছেন ভারত-সরকার অতঃকিম তার যথার্থতা প্রয়োগীকরণ একমাত্র বাঞ্ছনীয়। সমগ্র অণুরেণু সঙ্ঘবদ্ধ মানুষেরা ‘মনুষ্যত্ব’ এই চরিত্রলক্ষণের প্রতি জাগ্রত হোক এই কামনা করি।

 সমাজের এই আশা-ব্যঞ্জন পূরণে সাহিত্যিকের কলম সদর্থক ভাবে ব্যবহৃত হোক এটাই কাম্য। দল-রঙ-বুর্জোয়াতন্ত্র নির্বিশেষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলুক আমাদের কলম। এটা আমাদের নৈতিকতার পরিচয়বাহী। যেকোন অন্যায়ের প্রতিবাদে আমরা সবাই যেন একসাথে সোচ্চার হয়ে উঠি। এতে কোন রাজনৈতিক দলঘেঁষা হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। 

 ফিরে আসি C/O:সাহিত্যের কথায়। প্রথমসংখ্যা প্রকাশিত হবার পর আপনাদের সকলের কাছ থেকে যে অভূতপূর্ব সাড়া আমরা পেয়েছি, তাকে পাথেয় করে দ্বিতীয়সংখ্যা প্রকাশের সাহস রাখলাম। এই সংখ্যায় আমরা পাশে পেয়েছি আরও কয়েকজন গুনি মানুষদের। সবাই লেখা পড়ুন। লেখা পড়ে মত প্রকাশ করুণ গঠনমূলক ভাবে নিজের মতো করে। গণতন্ত্রে বাক স্বাধীনতা আছে আর আমরা C/O সাহিত্যের সকলে তাতেই বিশ্বাসী।

পরিশেষে, ভোটযজ্ঞের শেষে আমরা নির্বাচনে জিতিয়ে নিয়ে এসেছি যাদের তাদের কাঁথে দায়িত্ব চাপিয়ে অনাগত ভবিষ্যতের পরিণতির অপেক্ষায় দিনগোনা ছাড়া আর অন্য কোন উপায় নেই।      

               
                                                                                                                                সম্পাদকীয়
                                                                                                                          পবিত্র আচার্য্য
                                                                                                                             ৩রা জ্যৈষ্ঠ ১৪২১

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

CSS Drop Down Menu
আমাদের লেখা পাঠান careofsahitya@gmail.com- এ মেল করে।