১. উন্মাদ
কংক্রীটের ফুটপাত থেকে
বহুযুগের সাধ ছিল আইফেলের চূড়ায়!
নেহাত আইফেল না হলেও
রবীন্দ্রসেতু’র শীর্ষবিন্দুতে ...
যেখান থেকে সবাইকে ছোটো দেখায়,
খুব ছোটো ...
হুশহাশ গতির ইঁদুরদৌড়
এক পা কবরে রাখা কাঁচি
কিংবা তপ্ত সবুজের যন্ত্রাংশ
রোজই কারশেডে আগুন উপচায়
ঠুনকো মোমবাতির সলতে ...
এক পা-এক পা করে
বাঁধন বেয়ে ওপরে উঠতে থাকি
সব ফুৎকারে উড়িয়ে
শৈশবের মত
নীচে লম্বা মই-ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি
কৌতূহলী চোখের ছয়লাপের দিকে
যে কাকতাড়ুয়া আমায় দেখে হাসে,
আমি তো নই ... কোনো বদ্ধ উন্মাদ!
২. ভার্টিগ্যো
লাল ফিতের নরম নীচ থেকে
আলগা ধাতুর চাপেই
জোঁকের মত জাপটে ধরে আলোরাত,
অসাঢ় খোলসের থাম বেয়ে
রক্তের মত গাঢ় অ্যালকোহল-
কুঁকড়ানো ভাঁজ পেরিয়ে ঘাড় নামাতে পারিনা
পায়ের পাতায় গজানো ছত্রাকে
গুঁড়ো গুঁড়ো ঝুপড়ি একাকার,
পাছে স্যাঁতসেঁতে শ্যাওলার ওপর
আকাশ ঘুরে যায় চাকতির বাইরে!
৩. শাহজাদীর তীরে
দূর থেকে তাজমহলের নিঃশ্বাস
অহংকারী মনে হয়,
অথচ ধোঁয়া সরিয়ে গেলে
খোলামেলা হাসি খোলামেলা পোশাকে
কাঁচের গ্লাস উপচে যায়
পেতে চেয়েছি কুয়াশার স্বাদ
ভ্যানিটি ব্যাগের রেলট্র্যাকে
সুতো হয়ে যাওয়া সড়ক
আর সড়কের ছুতো বেয়ে
যাতায়াত করে মড়ক মিছিল
কঙ্কালসার জীবাশ্মদের
দূরে সরিয়ে রাখা চোখের কানাচে
যখন গম্বুজের গন্ধ ছড়ায়
আমিও পিছন ফিরি অনিচ্ছার বাঁকরঙে
দু’হাতের বৃত্তে সবকিছুর স্বপ্ন
কবিতার লাইনে আলাদা হয়ে যায়
লিখে চলি তোমার প্রশংসায় হাজার হাজার স্তবক,
স্তাবক হতে পারিনা!



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন