আমাদের লেখা পাঠান careofsahitya@gmail.com-এ। ভালো থাকুন সকলে। চলতে থাকুক কলম। বলতে থাকুক শব্দ।

প্রচ্ছদ

A SAHITYA-ADDA Initiative C/O:sahitya A BLOG MAGAZIN STAY WITH US THANK YOU
bloggerblogger

রবিবার, ১৮ মে, ২০১৪

ধারাবাহিক উপন্যাসঃ এক আকাশের ঘুড়ি / সৈকত মান্না



                                                         
        অনেকক্ষণ হল বন্ধ দোকানটার শেডের তলায় দাড়িয়ে গা বাঁচাচ্ছে শান্তনু। পা গুলো এবার বাঁধ সাধছে, বলছে আর দাঁড়াব না। বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে, তার বাঁকা বাঁকা বিন্দু ছিটকে আসছে শান্তনুর গায়ের এক পাশে। ও যতটা সম্ভব নিজেকে আড়াল করেছে তবু ছাঁটটা তেড়ে আসছে ওর দিকে। নিজেকে বাঁচানোর থেকে পিঠের ব্যাগটাকে বাঁচানোর তাগিদ ওর কাছে অনেক বেশী। নিজেকে কোনদিনই ও বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে চায় নি, প্রতিবারই ভিজতে চেয়েছে কিন্তু  সবসময় হয়ে ওঠে না,  কখনো স্কুলের ব্যাগ তো কখনো দামী মোবাইল বাঁচাতে নিজেকেও বাঁচাতে হয়েছে, আবার কখনো বা মায়ের চোখ রাঙ্গানিকে আড়াল করবার জন্য।
              আজ বৃহস্পতিবার, সকাল সাতটা থেকে ওর অঙ্ক পড়া থাকে। পড়া থেকে ফেরার সময় ভিড় এড়ানোর জন্যই স্টেশন থেকে স্কুলে যাওয়ার রাস্তাটাকেই আজ বেছে নিয়েছিল শান্তনু। গলিপথ বলে একটু বেশী সময় লাগবে বটে তবে বেশ যেন নিজের সাথে হাঁটা যায় এই রাস্তাটা ধরে। আজ ব্যাচ থেকে বেরিয়েই শান্তনু বুঝেছিল বৃষ্টি নামবে, তবু কেয়ার করেনি, কারণ মেঘগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে ছিল, ভেবেছিল জুড়তে জুড়তে ও পগারপার । কিন্তু মাঝ পথেই জুড়ে গিয়ে আকাশটা চক্রান্ত করল ওর বিরুদ্ধে। এখন বৃষ্টি বেশ রাজত্ব চালাচ্ছে। রাস্তাঘাট পুরো ফাঁকা করে দিয়েছে, গলিটা যত দূর দেখা যাচ্ছে ততটাই শুধু শূন্যতা আর কেমন যেন একটা ঝাপসা, ধোঁয়াটে ভাব। শান্তনুর ঠিক সামনে যে পাঁচিলটা আছে তার ওপরে প্রায় ৭৫ ডিগ্রি কোনে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ঠিকরে পড়ছে আর সুষমভাবে চার টুকরো হয়ে ছিটকে যাচ্ছে চারিদিকে। হঠাৎ শান্তনুর মনে হল আকাশটারও ওপরে কোথাও একটা বেশ বড় কিন্তু বে-রঙ্গিন তুবড়ি জ্বালিয়েছে কেউ। যেটা অনেকটা সময় নিয়ে জ্বলছে আর তার থেকেই এই জল-স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে... যারা তোপ দাগছে প্লাস্টার খসা দেওয়ালটাতে, যেটা আদপে লালচে ইট বার করে আমাদের লালকেল্লার একটা অনুরূপ গঠন করেছে। পাঁচিলের মাথার ওপর আর একটা জিনিসে চোখ আটকে গেল শান্তনুর।  একটা গিরগিটিপুরো সবুজ, ওটা বৃষ্টির মধ্যেও এক্কেবারে স্থির হয়ে আছে, যেন দেখাচ্ছে ওর সহ্যের সীমা কতটা। দেখাক, শান্তনুর কি? ও গিরগিটির সহ্যের সীমা দেখছে না ও দেখছে গিরগিটিটাকে। আসলে ছোটবেলা থেকে কখনো গিরগিটিকে সরাসরি দেখেনি ও, দেখা পেলেই পালিয়ে এসেছে... ওর তখন ধারনা ছিল গিরগিটির দিকে তাকাতে নেই, তাকালে ওরা শরীর থেকে রক্ত শুষে নেয়। এখন অবশ্য সে ভয় কেটে গেছে কারণ এখন সত্যি মিথ্যের ফারাক শান্তনু নিজেই করে। গিরগিটিটাকে দেখতে দেখতেই তুবড়িটা নিভে এলো। ফোঁটারা আবার পরের আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে নিজেদের লুকিয়ে নিল। বাইরেটা এখন অপূর্ব লাগছে... সমস্ত গলিটায় এলোমেলো সোনালি রোদ্দুর ছিটকে ছিটকে পরেছে ঠিক যেন কোন বাঘের শরীর। বৃষ্টির পরই রোদ, বেশ ভাল লাগে। কিন্তু আজ বৃষ্টিটা অনেকটা সময় কেড়ে নিলো শান্তনুর থেকে, বাড়ী গিয়ে স্নান খাওয়া সেরে স্কুলেও যেতে হবে । একটা ছাতা সাথে নিলেই হত। মা বারবার বলেও ছিল। কিন্তু এ যে শান্তনু... এই ছাতা জিনিসটা বড্ড অসস্থিকর মনে হয় ওর কাছে। একটা কালো উদ্ভট জিনিস হাতে করে নিয়ে ঘোরো তাও আবার এমন একটা ঘটনার জন্য যেটা আদেও ঘটবে কিনা সেটা খোদ ভগবানও বলতে পারে না আবহাওয়া দপ্তর তো দুরের কথা। ছাতার কথাতেই মনে পড়লো এমন একজন আছে যে কিছুতেই ছাতা ছাড়া হতে চায় না। তার দয়াতেই আগের বর্ষায় পড়তে যাওয়ার পথে একবারও ভিজতে হয়নি শান্তনুকে। আবার সেই তিথি। শান্তনুর বেশ মনে আছে , বৃষ্টি হলে ওই লাল ছাতাটাতে দুজনের হোক বা না হোক ওটা মাথার ওপরে রাখতেই হত। তিথির মত ছিল, বৃষ্টিকে রোখার জন্য ছাতা তৈরি তাই ছাতা নাকি ব্যবহার করতেই হবে। যদিও শান্তনুর বেশ মজাই লাগত তিথির সাথে এক ছাতার তলায় গা ঘেঁষে যেতে। একটা অদ্ভুত শিহরণ ছিল। ওর ভেজা চুলের ঝাপটা লাগলে মনে হত যেন এক্ষুনি কোথাও একটা বাজ পড়লো।
                গলিটা বড্ড আঁকাবাঁকা কখনো এদিকে বাঁক তো কখনো ওদিকে।  হঠাৎ হঠাৎ সাইকেল গুলো সামনে চলে আসছে। পুরনো কথা ভুলে এবার একটু তাড়াতাড়ি পা চালাল শান্তনু, যেন সময়টার সাথে তাল মেলাতে হবে। কিন্তু সময়টাও যে বালির মত, একটা বাঁক ঘুরতেই ওদের চেনা হলুদ স্কুলবাড়িটা আর তার লম্বা চওড়া কালো গেট, একটু পরেই এখানে আসতে হবে। স্কুলের পাঁচিল ধরে এগিয়ে গেলেই ও বটতলা পেয়ে যাবে। কিন্তু এগোতে পারল না, চোখ কি যেন একটা দেখল আর মস্তিষ্কের ধূসর কোষ সিগন্যাল পাঠাল থেমে যেতে। পা টা থেমেও গেল। স্কুল গেটে কালো একটা পালসার আর তার সামনে একজোড়া, যাদের নাম শান্তনুর লাইফেও এত দিনে জড়িয়ে গেছে। তিথি শান্তনুকে দেখে একটু অবাক, একটু যেন অপ্রস্তুত। আর শান্তনুর মুখে একটা বাঁকা হাসি। ওর দুচোখ যেন তিথিকে বলতে চাইছে, “এতটা খোলাখুলি? ভালই তো আছিস, কিন্তু আমাকে না দেখালেও পারতিস।তিথিকে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে যে তিথি চাইছে শান্তনু এখান থেকে চলে যাক। কিন্তু শান্তনু কি বুঝল কে জানে সরাসরি এগিয়ে গেল ওদের দিকে, অনিকে অগ্রাহ্য করে তিথিকে প্রশ্ন করল, “কি রে কেমন আছিস?... অবশ্য দেখে তো মনে হচ্ছে ভালই আছিস। তা আমাদেরকেও একটু মনে রাখিস, ফোন-টোন তো আজকাল করিস না আর, নাম্বারটা কি করে হারিয়ে ফেলেছিস?” তিথি জাস্ট হা করে তাকিয়ে আছে। শুধু শান্তনুর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, কি জবাব দেবে? আদেও দেবে কিনা কিছুই মাথায় আসছে না ওর।
শান্তনু তিথির উত্তরের অপেক্ষাতেও নেই , ওর চোখ এবার ঘুরে গেছে অনিকে লক্ষ করে, “কেমন আছ বস? সব ঠিকঠাক তো।অনি ও অবাক। এই ছেলেটাকে অনি ভালো করেই চেনে আর সব কিছুই জানে ওদের সম্পর্কে তাই ওর মনে একটা চাপা গর্বও আছে নিজেকে নিয়ে। কিন্তু অনি কোনদিনও শান্তনুর সাথে কথা বলে নি আর আজ হঠাৎ কি যে হল? কি বলবে ও?
-         আচ্ছা চলি, আজ একটু তাড়া আছে হ্যাঁ, আসি।
শান্তনু এবার বাড়ির পথ ধরল, পেছনে দুই হতবাক। সবচেয়ে বেশী তিথি। ও কোন সানুকে দেখল? যে শান্তনু জ্বলছে তার আগুনটার হল্কা কি টের পেল তিথি? শান্তনু মনে মনে হাসছে, অনেক দিন পর আজ ও এমন একটা কাজ করেছে যেটা ও ভেবে চিন্তে করেছে। আর মনটা বলছে, “বেশ করেছিস।


                                                         
                  অনেকক্ষণ ধরে ঘরের নীল নাইটল্যাম্পটা জ্বলছে। এখন চোখ সয়ে এসেছে তিথির। মনটা আজ কোন এক ভয়ঙ্কর শক্তিশালী মাকড়শার জালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে, সারা দুপুর ধরে অনেক চেষ্টা করেছে, এখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে... জট তো খোলেইনি উল্টে আরও গাঁট পরেছে।
                ‘আবঝা আলোয় মনটা স্পষ্ট হয়’—এই থিয়োরিটা শান্তনুর, ও এইভাবেই ভাবত। তিথি ওর কাছ থেকেই শিখেছিল। আর আজ ওই ওর থিওরিটাকে পাল্টে দিয়েছে , শান্তনু আজ এমন ভাবে চড়ে বসেছে তিথির মাথায় যে তিথি কিছু ভাবতেই পারছে না। আজ বিকেলের পড়াটাও কামাই করেছে তিথি, মোবাইলটাও সুইচ অফ। সকালে শান্তনুকে দেখেছে তিথি, আজ আবার তিথি শান্তনুর চোখে তাকিয়েছিল কিন্তু আজ বুঝতে পারেনি শান্তনুকে, যেমন আগেও বুঝতে পারত না। প্রথমবার যখন শান্তনু আর তিথির দেখা হয়েছিল সেদিন তো তিথির সাথে কথাই বলে নি শান্তনু। সেটা ছিল একটা পড়ার ব্যাচ, শনিবারের বিনয় স্যারের ফিজিক্স ব্যাচ। তখন ক্লাস ইলেভেনের শুরু... পুরনো চেনাজানাদের সাথে এক ঝাঁক নতুন মুখ। তাদের মধ্যে ছিল শান্তনুও। সেদিন ও সবার শেষে পড়তে এসেছিল। পড়ার সময় ছিল ৬ টা আর ও ঢুকেছিল ৭টা ১০ এ। পড়ার ঘরের দরজায় দারিয়েই মাথা নিচু করে শুনেছিল স্যার এর অগ্নিগর্ভ গলা। স্যার যখন জিজ্ঞেস করেছিল। এত দেরি কেন শান্তনু?” তখন ও খুব স্পষ্ট গলায় কেটে কেটে বলেছিল , “আপনি তো ৬ টা বলে প্রতিদিনই সাড়ে ৭ টা থেকে পড়ান, আমি কি করে বুঝব আজ তাড়াতাড়ি শুরু করবেন?” স্যার একটু থতমত খেয়ে চুপ করে গেছিল আর দরজার ঠিক সোজাসুজি বসা তিথিরা সবাই মুখ টিপে হেসেছিল। সেদিন তারপর আর কারোর সাথে একটাও কথা বলেনি শান্তনু। আবার পরদিন ব্যাচেই দেখা ওর সাথে, সেদিনও দেরি কররে এন্ট্রি নিয়েছিল ও। তখন ঘরে জোরকদমে চলছে ছেলে বনাম মেয়েদের দন্ধযুদ্ধ মানে ওই বাকযুদ্ধ। আর অনায়াসে তাতে ছেলেদের পক্ষে ইন্ধন জুগিয়েছিল শান্তনু। সেইবারই প্রথম কথা বলা। মানে প্রথম কথা কাটাকাটি, তাও ইনডায়রেকলি। তারপরও একমাস শান্তনু তিথির সাথে সরাসরি কথা বলতো না। মাঝে মাঝে শুধু তাকাত। আর আজ তিথির সেই চেনা সানু ভেঙ্গে চুরমার, যে ছেলেটা কারোর সাথে যেচে কথা বলতো না আর আজ সে কিনা অনির সামনে তিথিকে এই ভাবে অপদস্থ করল? তিথি ভাবতেই পারছে না।
                কিন্তু এসবের জন্য দায়ী কে? তিথি? সত্যিই তো। তিথিই তো শান্তনুকে ভালবেসেছিল, তবে কি তিথিই ওকে বদলে দিল? শান্তনু কি তিথিকে আজও ভালবাসে? না, ভালবাসে না ছাই? যে নিজের ভালবাসা জাহির করতে পারে না তার আবার ভালবাসা। রহিতই যদি সেদিন তিথিকে না বলতো যে শান্তনু ওকে ভালবাসে তবে তো তিথি কোনদিনই জানতে পারত না শান্তনুর মনের কথা। হ্যাঁ, রোহিত শান্তনুর বেস্ট ফ্রেন্ড, শান্তনু রোহিতের সাথে সবকথা শেয়ার করত তখন। কথায় কথায় কোন একদিন শান্তনু রোহিতকে বলে ফেলেছিল যে ওর তিথিকে ভাল লাগে আর ব্যাস, পেট-পাতলা রোহিত সেটা ফাঁস করে দিয়েছিল তিথির কাছে। তারপরের সব ঘটনার জন্যই তো আজকের এই দিনগুলো। না রোহিত ওই কথা গুলো বলতো না শান্তনু আর তিথির মধ্যে কোন সম্পর্ক হত, আর না তিথি নিজেকে দোষী মনে করত সানুর এই পরিবর্তনের জন্য। হোক দায়ী তিথি। তবে শান্তনু কে ওকে অপমান করার? ও আজ ফোন করার কথা বলছিল না? হ্যাঁ,তিথি তিন মাস ফোন করেনি শান্তনুকে, বেশ করেছে করেনি। তবে আজ করবে, হ্যাঁ এক্ষুনি করবে আর জিজ্ঞাসা করবে আজকের ব্যাবহারের মানেটা কি? কি ভেবেছেটা কি ও নিজেকে?
            বিছানা হাতরিয়ে ফোনটা পেল তিথি। সুইচটা অন করল। একটু অপেক্ষা করতে হচ্ছে, মোবাইলটা কল করার জন্য এক্ষুনি তৈরি নয়। এবার টাওয়ারটা এলো। ফোনবুক ঘেঁটে নাম্বারটা পেল।  কলিং সানু”... আবার অপেক্ষা... ওপাশ থেকে যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর জানান দিল নাম্বারটি এই মুহূর্তে নট রিচেবেল। নট রিচেবেল? মানে সুইচ অফ না... তবে কি সিম খোলা আছে? কে জানে? ভাবনা আর জল্পনা কল্পনার ফাঁকেই দুটো পেডিং ম্যাসেজ ঢুকে গেল, দুটোই অনির।

প্রথমটা-তিথি, আজ সকালের ঘটনা নিয়ে কিছু ভেবো না, আমি কিছু মনে করিনি। আর ওই ছেলেটার কথাও ভেবো না... নন্‌সেন্সটাকে আমি দেখে নেব।দেখে নেব... মানে? ভ্রুটা একটু বাঁকল তিথির আর দ্বিতীয়টা—“ কি গো, ফোনটা কি করে রেখেছ? কল, ম্যাসেজ কিছুই যাচ্ছে না। পারলে কন্টাক্ট করো।এটা মনে হয় একটু আগেই পাঠিয়েছে। তিথির এখন ভালো লাগছে না অনি কে ফোন করতে। ও  দরজা খুলে হল ঘরে এলো। দাদু সোফায় বসে আছে, চোখ টিভির পর্দায়, ওর দিকে খেয়াল করবার ফুরসত নেই। মা বাবা আজ বাড়িতে নেই। রিনা অ্যান্টির বাড়ী গেছে, তিথির ছোট পিসি, রাত্রেও ফিরবেন না। তাই হলঘরটা একটু ফাঁকা না হলে এখন সবাই ভিড় করে সিরিয়াল দেখত। দাদু এখন খবর শুনছে। তিথি পাশ কাটিয়ে ছাদের সিঁড়ি ধরল। ওদের ঘেরা ছাদ... পাঁচিলটা কোমর সমান বলে মাথা বার করে
সরাসরি নীচের রাস্তাটা দেখা যায়, সাধারণত যেটা দোতলা-তিনতলা বাড়িতে প্রায়ই হয়না। ওদেরটা দোতলা। নীচের রাস্তায় দু-এক জন চলে ফিরে বেড়াচ্ছে... ওদের গলিটায় একটাই ল্যাম্পপোস্ট...তার চারিদিকটায় গোল হয়ে আলো ছড়িয়ে আছে। ওপর থেকে কোন ক্যারমবোর্ডের উপরে ঝোলানো আলোর মত দেখতে লাগছে। ওই ল্যাম্পপোস্টের পাশেই টানা পাঁচদিন দাড়িয়ে ছিল অনি, সারাটা দিন, যতক্ষণ না পর্যন্ত তিথি স্কুলের জন্য বাড়ী  থেকে বের হয়। দেখা হলে একটাই কথা, “সরি তিথি, সেদিন সিনেমা হলে আমি ঠিক বুঝতে পারি নি... ঘোরের মাথায়... ভুল করে... সরি। প্লিজ।প্রথম দুদিন তিথি যাচ্ছেতাই ভাবে অপমান করেছিল। কিন্তু তারপরেও অনিকে দারাতে দেখে রাগ ধীরে ধীরে ভেঙ্গে গেছিল। তারপর আবার একটা সুযোগ দিয়েছে তিথি অনি কে। এই যে তিথি অনিকে বার বার সুযোগ দিছে আর শান্তনুর বেলায়? কিন্তু সানু তো পুরো অন্যরকম, ও কি একবার ও সুযোগ চেয়েছে না চাইত? ও সবসময়ই নিজেতে ব্যস্ত। পারত ও অনির মত তিথির জন্য সব কাজ ফেলে এক সপ্তাহ হত্যে দিয়ে পড়ে থাকতে? তিথি শান্তনুকে জানে, ও করত না। প্রতিটা ঝগড়ার কইফিয়ৎ শুধুমাত্র তিথিকে দিতে হয়েছে। আজও তাই তিথি নিজেকে দোষী ভাবছে। না, ও দোষী নয়। আর দোষী হলেও, সব দোষ ওর একার নয়।

                                                                                               (ক্রমশ)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

CSS Drop Down Menu
আমাদের লেখা পাঠান careofsahitya@gmail.com- এ মেল করে।