ছবির প্রথমেই দেখতে পাই, একজন বোকা বোকা চোখের মানুষ এদিকওদিক দেখতে দেখতে ঢুকে পড়ে একটা পুরোনো বাড়ির আবছায়া ঘরে। একজন ষন্ডাগুন্ডা লোক একটু পরেই কড়া নাড়ে সেই লোকটির
সেই শেকলতোলা ঘরে। অগোছালো ঘরটির দিয়ে হেঁটে ওই দুজন মানুষ এসে দাঁড়ায় কাপড়ে ঢাকা কতগুলো পেইন্টিং-এর সামনে। ওই দুজনের একজন চিত্রশিল্পী। আরেকজন, ... বাড়ীওয়ালা। বেরিয়ে আসে একের পর এক পেইন্টিং। আর ছবির ডানদিকের নীচে, যেখানে শিল্পীর সাক্ষর থাকার কথা ছিল, সেখানে দেখতে পাই ঘূর্ণির মতো আবর্তের রেখাচিত্র! যেখানে দেখি, বাড়িওয়ালা চোখ, শিল্পীর চোখ কিংবা দর্শকের মনের চোখ, কখনও বা হয়ত লোভের চোখ হারিয়ে যাচ্ছে বর্তমান ছেড়ে, ছবির ফ্রেমে। আর ছবির পর্দা জুড়ে জেগে উঠছে ছবির চরিত্রেরা। ছবির গল্পেরা। ম্যাজিক রিয়্যাজম এর মত! ছবি এগোনোর সাথে সাথে আমরা বুঝতে পারি ভ্যাবাচ্যাকা চোখ মুখের ওই ওই চিত্রশিল্পীই সুতো ধরে আছেন এই পুরো ছবিটার এক একটা ফ্রেমের। আবার ওই ঘরের মধ্যে রাখা পেইন্টিং এর ফ্রেমগুলোরও। এমন এক ফ্রেমে ঢুকতেই আমরা দেখতে পাই অভিজাত পাড়ার এক পুরোনো বাড়ির বৃদ্ধা পঙ্গু মালকিন আর তার জোয়ান ড্রাইভারের সম্পর্ককে । দিবারাত্র খিচ খিচ করা মালকিনের গালাগালি খেতে খেতে হতাশায় ডুবতে থাকা ড্রাইভার চায়ের দোকানে গভীর রাত অব্দি আকন্ঠ মদ্যপান করতে করতেও স্বপ্ন দেখে নিজের একখান গ্যারেজ খোলার। একেবারে নিজের মনের স্বপ্ন।




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন