আমরা বলি ছেলেবেলা হারিয়ে গেছে। সম্পর্ক হারিয়ে গেছে। আসলে কোনো কিছুই হারায় না।
আবিস্কারের হাত থেকে পালিয়ে পালিয়ে বাঁচি মাত্র।অনেকটা চশমার মতো কোনো না কোনো বালিশের তলায় চাপা পড়ে থাকে।তাকে খুঁজে পাওয়ার সামর্থ্য শেষ হলে বলি হারিয়ে গেছে। পরের দিন মা ঝাঁট দিতে গিয়ে খুঁজে পায়।সেই দিদির অভ্যাস।মেঝের কোণেই ক্লিপ পড়ে থাকে তবু খুঁজে পায় না। দিদির অনেক অনেক ক্লিপ এই হারানোকে আবিস্কার করতে দেয়নি।অনেকটা মায়ের সুঁচ হারিয়ে গেলে আমার আবিস্কারের মতো দেখতে হয়। ঘাড় গোঁজ করে মাদুরের নীচে পড়ে থাকে সুঁচ। নোখ দিয়ে খুঁটে মায়ের কাছে দিলে মা গাল টিপে দেয়। কাঁথা সেলাই করতে করতে বলে হারিয়ে গেছিল তো। কোথায় পেলি?
এই সুঁচ খুঁজে পাওয়ার ধারণা শেখায় প্রতিটা হারানোর ভেতর ফিরে পাওয়ার এক বান্ধবী লুকিয়ে থাকে।
তখন বলছ এসো পাহাড়ে হারাই।আসলে চাইছ সমুদ্র সৈকতে দুজন দুজনের বুকে আটকে যাই।আমাদের এই আটকে যাওয়া যাতে কেউ না দেখে ফেলে। আমরা তেমন পাহাড়ের আড়াল খুঁজি। ঝাউ গাছের আড়াল খুঁজি। আসলে হারিয়ে যাওয়ার অভিনয় করে তোমার আরো কাছে চলে আসি।বইপত্তর ঘাঁটতে ঘাঁটতে খাটের নীচেই এগোই।চশমার কাছে যাই। এক পা হারিয়ে যেমন মানুষটা পায়ের আরো কাছে আসে। সারাজীবন খোঁড়াতে খোঁড়াতে সে পায়ের কথাই মনে করে। সম্পর্কও হারিয়ে যাওয়া মানে ছাদে দাঁড়িয়ে তুমি কাঁদছ খুব। আমার কথা ভাবছ ভীষণ।আমায় চিঠি লেখার চেষ্টা করছ জড়িয়ে ধরা মনে রেখে। আসলে আমি বা আমার মা কেউ হারাইনি।আত্মীয় মরে গেলে দিন গুলো হারিয়ে যায় না। বরং হারিয়ে যাওয়ার অভিনয় করে তোমার কাছে আরো বেশি বেশি আসে ছেলেবেলা। তিথির'দি সুমনদা'কে আরো বেশি জড়িয়ে ধরার সুযোগ করে দেয়।



onek valolaga
উত্তরমুছুনবেশ লাগলো পড়ে
উত্তরমুছুন