পৃথিবীর সব
ছোট, বড়, দীর্ঘতম, ক্ষুদ্রতম স্টেশনগুলিকে টেক্কা দিয়ে আপামর
বাঙ্গালীর মননে যে
স্টেশনটিতে মাঝে মাঝেই ট্রেন থামে আমি তার কথা বলছি। মনোরমা ইয়ারবুক কিংবা
এনসাইক্লোপিডিয়া ঘেটে এই স্টেশনের হদিশ করতে যারা উদ্যোগী হলেন তারা ব্যর্থ হবেন।
এই স্টেশনের হদিশ কিছু বাংলা কবিতা বা গান কিংবা সাহিত্যের পাতায় বা দেওয়ালে কুটি
কুটি করে লেখার অক্ষরে আটকে থেকেছে অথচ বাঙ্গালির হৃদয়ে এই স্টেশনের প্লাটফর্মে ট্রেনের
নিত্য স্টপেজ। আজ্ঞে এই সেই মনকেমনের স্টেশন।
দৈনন্দিন
জীবনের ডেইলি প্যাসেঞ্জারিতে এই স্টেশনটি বেশ ঝা চকচকে এবং বিলাসবহুল, আর এতটাই
স্পেসিয়াস যে এই জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান ক্রমিক সংখ্যায় কখনও ট্রেন ঢুকতে দেরী
হওয়ার অভিযোগ ওঠেনি। বরঞ্চ পার্কে, রাস্তায়, বাসে, ট্রামে, বেডরুমে বা ব্যলকনিতে
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই বেশ অনেকেই ট্রেন থামিয়েছেন এবং থামাচ্ছেন এই প্লাটফর্মে। এই
লেখাটা লিখতে লিখতে এমন কতজনের কত ট্রেনই যে অগুন্তি কতগুলো প্লাটফর্মে স্টপেজ দিল
তার ইয়ত্তা নেই। সেইসব গোনা গুন্তির মধ্যে জড়ানো মানে অযথা শব্দসংখ্যা টেনে
বাড়ানো।
এই স্টেশনের
যাতায়াতের মূল ভাষাটা কিন্তু নীরবতা। মন কেমনের বাস্প জমতে জমতে যখন হুইসেল ছাড়ে
নিঃশব্দে,তারপর চাকা গড়াতে গড়াতে,ঠিক স্টপেজ পাবেই পাবে। এখানে সিগনালে শুধু একটাই
রং সবুজ। শুধু সেই সময়টুকু তোমার আমার জীবনের বাস্তব সিগন্যালের রং টাকে লাল করে,
ট্র্যাক চেঞ্জ করলেই হল। তারপর শুধুই কিছুটা সময়/দিন/মাস/বছর যাপন, যে যতক্ষণ
থাকার ছাড়পত্র দিলে নিজের মনকে।তবে বাস্তবের ষড়যন্ত্রে এর স্থায়িত্ব খুব বেশী নয়।
একসময় বাস্প ক্ষরণ রুদ্ধ করবে দৃষ্টি তারপর, ঘন কুয়াশায় অস্পষ্ট দৃশ্যেরা হাতছানি
দিয়ে ডেকে নেবে বাস্তবের দোরগোড়ায়। তারপর আবার বাস্প জমার দিনগোনা।



ভীষণ ভীষণ মন কেড়ে নেওয়া....
উত্তরমুছুনখুব কিউট লেখা, বেশ বেশ ভাল লাগলো।
উত্তরমুছুনআমি যদি লেখাটাকে একটা মুকুট পরাই তবে চূড়া মণি হবে-" এখানে সিগনালে শুধু একটাই রং সবুজ"
উত্তরমুছুন